Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অক্ষয় তৃতীয়ায় ব্যবসা জমে ওঠায় খুশি পিংলার নয়াগ্রামের পটশিল্পীরা

প্রচণ্ড গরমে বেচাকেনা প্রায় লাটে উঠেছিল। বিক্রি বাড়বে কবে-এই প্রশ্নই পিংলা ব্লকের নয়াগ্রামের পটশিল্পীদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল।

অক্ষয় তৃতীয়ায় ব্যবসা জমে ওঠায় খুশি পিংলার নয়াগ্রামের পটশিল্পীরা
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: প্রচণ্ড গরমে বেচাকেনা প্রায় লাটে উঠেছিল। বিক্রি বাড়বে কবে-এই প্রশ্নই পিংলা ব্লকের নয়াগ্রামের পটশিল্পীদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল। অক্ষয় তৃতীয়ায় ফের ব্যবসা জমে ওঠায় তাঁদের মুখে হাসি ফুটেছে। প্রচুর পর্যটক এসে পটচিত্র কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তাই পটশিল্পীরা এখন কর্মব্যস্ত।

Advertisement

শিল্পীরা জানালেন, মার্চ মাস পর্যন্ত বিক্রির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে। তবে এরপর গরম বেড়ে যাওয়ায় বিক্রিও কমতে থাকে। তবে পয়লা বৈশাখে ভালো বিক্রি হয়েছে। এবার অক্ষয় তৃতীয়ায় দীঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন হচ্ছে। সেই উপলক্ষ্যে অনেকেই পটশিল্পের রীতিতে জগন্নাথদেবের ছবি আঁকা টিশার্ট কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
পটশিল্পী মুস্তফা চিত্রকর ও সোনিয়া চিত্রকর বলেন, মার্চ মাসের পর থেকে বিক্রি অনেকটাই কমে গিয়েছিল। তবে পয়লা বৈশাখ ও অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষ্যে বিক্রি বাড়ছে। পটের কাজ করা জামাকাপড়ের বিক্রি সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। গতবছরের তুলনায় এবার শুরু থেকেই ভালো বিক্রি হচ্ছে।পটশিল্পী বাহাদুর চিত্রকর বলেন, ছুটির দিনে হাটে ভালোই লোক হচ্ছে। মেলায় শিল্পীরা যাচ্ছেন। বিক্রির পরিমাণও বাড়ছে। অক্ষয় তৃতীয়ার দিনও প্রচুর মানুষ আসবেন বলে আমরা আশাবাদী। পিংলার পটশিল্পের জনপ্রিয়তা এখন বিশ্বব্যাপী। বিদেশ থেকেও মানুষ আসছেন। বহু যুগ ধরেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা ব্লকের নয়াগ্রামের মানুষ বংশপরম্পরায় পটশিল্প তৈরি করে আসছেন। সেই শিল্পীদের হাতে কখনও রামায়ণ, কখনও মহাভারত, আবার কখনও চণ্ডীমঙ্গল সহ নানা দেবদেবীর ছবি ফুটে ওঠে। গ্রামের অভিজ্ঞ শিল্পীদের পাশাপাশি এখন কচিকাঁচারাও এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। নিয়মিত কাজ শেখে। কয়েকবছর ধরে গেঞ্জির কাপড়ের উপর পটের কাজ করা টি-শার্টের চাহিদা বেড়েছে। এছাড়া, মহিলাদের জন্য ওড়না, শাড়ির উপরেও পটের নানা কাজ করা হয়। এছাড়া, চায়ের কাপ, ট্রে, কেটলি, ছাতা, কুলো, কাঠের তৈরি ছোট ছোট গয়নার বাক্সেও পটের কাজ করা হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে পটের কাজ করা হাতপাখার বিক্রিও বেড়েছে।
মেদিনীপুর শহর থেকে প্রায় ৪১কিমি দূরে পিংলার নয়াগ্রাম। কলকাতা থেকে গাড়িতে এনএইচ-৬ ধরে প্রথমে ডেবরা যেতে হয়। সেখান থেকে বালিচক হয়ে পিংলার নয়াগ্রাম যাওয়া যায়। এছাড়া, বারবেটিয়া হয়েও পিংলার নয়াগ্রাম যাওয়ার রাস্তা রয়েছে। শিল্পীদের সুবিধার্থে নয়াগ্রামের শিল্পকেন্দ্রটি ঢেলে সাজানো হয়েছে। আগে গ্রামে আসা পর্যটকদের জন্য কোনও শৌচাগারের ব্যবস্থা ছিল না। এখন দু’টি শৌচাগার তৈরি করা হয়েছে। শিল্পীদের সুবিধার্থে প্রশাসন নানা মেলা আয়োজন করছে। ফলে পটের জিনিসের বিক্রিও বাড়ছে।
রাজ্যের মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বলেন, পিংলার পটশিল্পের বিকাশ ঘটেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেষ্টায় এই এলাকার আর্থিক উন্নতি হয়েছে। এখানকার শিল্পকর্ম বিদেশেও যাচ্ছে। রাজ্য সরকার সবসময় পটশিল্পীদের পাশে থাকবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ