Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জমি কেলেঙ্কারি কাণ্ডে এবার পায়রাডাঙায় পড়ল পোস্টার!

সম্প্রতি, জেলাশাসকের নির্দেশে তদন্ত কমিটিও জমি কেনা-বেচা নিয়ে তদন্ত করছে

জমি কেলেঙ্কারি কাণ্ডে এবার পায়রাডাঙায় পড়ল পোস্টার!
  • ২৫ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ফের বিতর্কে পায়রাডাঙা পঞ্চায়েত! এবার জমিকাণ্ড নিয়ে পঞ্চায়েত প্রধান এবং জমির বিক্রেতা তথা কংগ্রেস নেতা বিজয়েন্দু বিশ্বাসের নামে পোস্টার-প্ল্যাকার্ডে ছয়লাপ বিতর্কিত জমিসহ একাধিক এলাকা। সোমবার সকালে বিভিন্ন জায়গায় এই পোস্টারগুলি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। যা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক জলঘোলা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি, জেলাশাসকের নির্দেশে তদন্ত কমিটিও জমি কেনা-বেচা নিয়ে তদন্ত করছে। তার মাঝে পায়রাডাঙার বিভিন্ন জায়গায় ছেয়ে যাওয়া এই পোস্টার, সেই বিতর্ককেই অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিল।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে প্রথম নজরে আসে সাদা কাগজে ছাপার হরফে লেখা পোস্টারগুলি। পায়রাডাঙা রেলস্টেশন সংলগ্ন প্রীতিনগর ভূদেব স্মৃতি স্কুলের সীমানা প্রাচীর, পঞ্চায়েত এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়ির দেওয়াল ও শিবপুর ঘাটের কাছে বিতর্কিত জমিতেও পোস্টারগুলি দেখা গিয়েছে। প্রতিটি পোস্টারেই সরাসরি প্রধান ফাল্গুনী বিশ্বাস এবং সঞ্চালক তথা পঞ্চায়েত সমিতির কংগ্রেস সদস্য বিজয়েন্দু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ‘পায়রাডাঙা নাগরিকবৃন্দ’। যদিও একাধিক পোস্টারে লেখা ‘মা-মাটি-মানুষ জিন্দাবাদ’ স্লোগান তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের প্রসঙ্গ উস্কে দিয়েছে। দেখা গিয়েছে, পোস্টারগুলির কোনওটিতে লেখা, ‘পঞ্চায়েতী আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কেন প্রধান জমি কিনলেন, ফাল্গুনী বিশ্বাস জবাব দাও’। কিংবা ‘৭ লক্ষ টাকার জমি ৩৭ লক্ষ টাকায় কিনেছে পায়রাডাঙা পঞ্চায়েত, প্রধান ফাল্গুনী বিশ্বাস এবং বিজয়েন্দু বিশ্বাসের শাস্তি চাই’। কোথাও আবার লেখা ‘পায়রাডাঙাবাসীর করের টাকা তছরুপ হল কেন, প্রধান ফাল্গুনী বিশ্বাস জবাব দাও’ ইত্যাদি। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন রানাঘাট-১ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তথা পায়রাডাঙা পঞ্চায়েতের অন্যতম সঞ্চালক বিতর্কিত কংগ্রেস নেতা বিজয়েন্দু বিশ্বাস। তিনি বলেন, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে এই পোস্টার। আমাকে চাপে রাখার জন্য এটা করা হচ্ছে। আমি জমি বিক্রি করতে চাইনি। উন্নয়নের স্বার্থে ওরা আমার কাছ থেকে জমি কিনেছে। নদীয়া জেলা পরিষদের সদস্য তথা পায়রাডাঙার তৃণমূল নেতা দীপক বসু বলেন, আমাদের দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলে কিছু নেই। যেহেতু সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, তাই তার আগে আমাদের দলকে কলুষিত করার চেষ্টা চলছে। পোস্টারে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করা হয়েছে পঞ্চায়েতের প্রধান ফাল্গুনী বিশ্বাসকে। তিনি বলেন, আমরা সমস্ত নিয়ম মেনেই ওই জমি কিনেছি। হয়তো কিছু পদ্ধতিগত ত্রুটি থাকতে পারে। কারা পোস্টার লাগিয়েছে তা আমি জানি না। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিকভাবে তদন্ত চলছে। বির্তকের মাঝে অদ্ভুতভাবে নীরব বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব। যদিও জেলাস্তরের মুখপাত্র সোমনাথ কর বলেন, সাত লক্ষের জমি ৩৭ লক্ষ টাকায় কেনা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ লক্ষ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ বাঁটোয়ারা হয়েছে। যারা ভাগ পায়নি, তারা পোস্টার লাগাচ্ছে। এটা বিক্ষিপ্ত পায়রাডাঙার ঘটনা নয়, গোটা রাজ্যের চিত্র।
প্রসঙ্গত, শ্মশান তৈরির জন্য শিবপুর গঙ্গার ঘাট সংলগ্ন এলাকায় থাকা কংগ্রেস সদস্য বিজয়েন্দু বিশ্বাসের ৭০.৫ শতক জমি কেনে পায়রাডাঙা পঞ্চায়েত। একমাত্র প্রধান ছাড়া তৃণমূলের আর কোনও সদস্যকে না জানিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বেশি দামে ওই জমি কেনা হয়েছে। এমনই অভিযোগ করে তৃণমূলের একাংশ। আইন অনুযায়ী, পঞ্চায়েত যে নিজে থেকে জমি কিনতে পারে না, তাও স্পস্ট অভিযোগ করা হয় বিক্ষুব্ধ পক্ষের তরফে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ