নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার পটচিত্রের কদর দিনদিন বাড়ছে। পটচিত্রকে বিশ্বের মানচিত্রে তুলে ধরাই প্রধান উদ্দেশ্য। সেই লক্ষ্যে শনিবার মেদিনীপুর পোস্টাল ডিভিশনের উদ্যোগে পিংলার নয়া গ্রামের পটচিত্রের পিকচার পোস্টকার্ড প্রকাশিত হল। সবং কলেজের বিদ্যাসাগর হলে হওয়া এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পোস্টমাস্টার জেনারেল(সাউথবেঙ্গল রিজিয়ন) ঋজু গঙ্গোপাধ্যায়, মেদিনীপুর ডিভিশনের সুপারিন্টেন্ডেন্ট গুড়িয়া কুমারী ছাড়াও পটশিল্পী বাহাদুর চিত্রকর, মন্টু চিত্রকর প্রমুখ। ডাক বিভাগের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার পটশিল্পী ও বাসিন্দারা। এদিন পটশিল্পীরা গানের মাধ্যমে গাছ লাগানোর বার্তা তুলে ধরেন। পোস্টমাস্টার জেনারেল জানান, বিভিন্ন ধরনের শিল্পকলা সংরক্ষণ করার জন্য ডাক বিভাগ নিরন্তর কাজ করে চলেছে। জেলার বিভিন্ন শিল্পকলা তুলে ধরার নানা পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, পিংলার নয়া গ্রামের বাসিন্দারা কয়েকশো বছর ধরে বংশ পরম্পরায় পটশিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। শিল্পীদের হাতেই ফুটে ওঠে রামায়ণ, মহাভারত, চণ্ডীমঙ্গল সহ নানা দেবদেবীর ছবি। গ্রামের প্রতিটি ঘরেই নানা ধরনের রঙিন শিল্পকলা ফুটে উঠছে। পিছিয়ে নেই গ্রামের গৃহবধূরা। তাঁরাও দিনের বেশিরভাগ সময় রং-তুলির সঙ্গেই সময় কাটান। তাঁদের অনেকে নানা ধরনের গানও বাঁধেন। গ্রামে নতুন অতিথি এলেই তাঁরা গান শোনান। এবছর বিক্রি ভালো হওয়ায় গ্রামের বাসিন্দারা খুশি। এবছর খাদির কাপড়ের উপর পটের কাজ করা ওড়না, টি-শার্টের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে কাঁসার থালা, ট্রে, কেটলি, ছাতা, কুলো থেকে বেতের তৈরি ছোট বাক্সেও আঁকা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, প্রতি শনি ও রবিবার নয়া গ্রামেই বসছে হাট। হাটে উপচে পড়ছে ভিড়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত তো বটেই, রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে মানুষজন এই গ্রামে আসছেন। বর্তমানে বিদেশ থেকেও গবেষণার কাজে এই গ্রামে ভিড় করছেন। এই গ্রামের শিল্পকলা তুলে ধরতেই পিকচার পোস্টকার্ড চালু হল।
গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, অনেক সময় পটচিত্র বাইরে পাঠানো সম্ভব হয় না। এখন থেকে পিকচার পোস্টকার্ডের মাধ্যমে পাঠানো সম্ভব হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে পটশিল্প সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। বিক্রি ভালো হলে গ্রামের মানুষজন স্বনির্ভর হবেন। এবছর বিক্রি ভালোই হয়েছে। পটশিল্পী বাহাদুর চিত্রকর বলেন, ডাক বিভাগের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি। শিল্পীদের জন্য খুবই গর্বের। আমরা আরও উৎসাহ পেলাম। -নিজস্ব চিত্র