Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুকুর শুকিয়ে ফুটিফাটা, নামেই নলকূপ তীব্র জলসঙ্কটে জেরবার জামবনীর বহু গ্রাম

সবে চৈত্রের শুরু। ভূগর্ভস্থ জলস্তর নামছে দ্রুত। শুকিয়ে যাচ্ছে পুকুরের জল

পুকুর শুকিয়ে ফুটিফাটা, নামেই নলকূপ তীব্র জলসঙ্কটে জেরবার জামবনীর বহু গ্রাম
  • ২৫ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: সবে চৈত্রের শুরু। ভূগর্ভস্থ জলস্তর নামছে দ্রুত। শুকিয়ে যাচ্ছে পুকুরের জল।জল উঠছে একাধিক টিউবওয়েলে। কোনওটা আবার দীর্ঘদিন খারাপ হয়ে পড়ে। সবমিলিয়ে, ব্যবহার ও পানীয় জলের ভয়াবহ সঙ্কটের কবলেজামবনীর দুবড়া গ্ৰাম। মহিলারা চড়া রোদ মাথায় করে দূরদুরান্ত থেকে জল আনতে বাধ্য হচ্ছেন। হুঁশই নেইস্থানীয় প্রশাসনও রাজনৈতিক নেতাদের। প্রশাসনের অবশ্য সাফাই—ভৌগোলিক কারণেই এই জলসঙ্কট। জামবনী ব্লকের বিডিও দেবব্রত জানা বলেন, ‘গরমের সময় দুবড়া, ধড়সা পরিহাটী এলাকায় জলস্তর নেমে যায়। পিএইচই পঞ্চায়েত সমিতির নিজস্ব জলের ট্যাঙ্ক রয়েছে। যেসব জায়গায় জলসঙ্কট দেখা যায়, সেখানে রোটেশন পদ্ধতিতে জল সরবরাহ করা হয়। এবারও জল সরবরাহের ব্যবস্থা হয়েছে।’ 

Advertisement

জামবনী ব্লকের প্রত্যন্ত গ্ৰাম দুবড়া। প্রতি গ্রীষ্মেই তীব্র জলকষ্ট শুরু হয় গ্রামে। অথচ, একাধিক টিউবওয়েল থাকলেও সেগুলি দীর্ঘদিন ধরে খারাপ। সারানো হয় না। বাসিন্দারা নিজেরাই বেশ কয়েকবার চাঁদা তুলে সারানোর ব্যবস্থা করেছেন। তাতেও খুব একটা লাভ হয়নি। গ্ৰামে পাইপ লাইন থাকলেও জল আসেনা। একটি মাত্র সাবমার্সিবল পাম্প। ভূগর্ভস্থ জলস্তর নেমে যাওয়ায় সেখান থেকেও পর্যাপ্ত জল মিলছেনা। ভোর হলেই গ্ৰামের মেয়েরা কলসি, বালতি নিয়ে বেরিয়ে যান।কয়েক মাইল দূর জল ভরে আনেন।আসতে আসতে সূর্যের তেজ বাড়ে। তেতেপুড়ে ঘরে ফেরেন মহিলারা। আক্ষেপ করে তাঁরা বলছিলেন, ‘আমরা ভোট দিই। আমাদের ভোটে জয়ী হন নেতারা। কিন্তু, আমাদের কথা কেউ আর ভাবেন না।’
বৃহস্পতিবার দুবড়া গ্ৰামের কালিন্দী পাড়ায় দাঁড়িয়ে কথা হচ্ছিলবেনী মল্লিকের সঙ্গে। তিনি বলছিলেন,‘ওই যে পুকুরটা দেখছেন, ক’দিন আগেও ওখানে জল ছিল। গরম পড়তে না পড়তেই শুকিয়ে কাঠফাটা।পাড়ার টিউবওয়েলটিও দীর্ঘদিন ধরে খারাপ।এলাকার লোকেরা নিজেদের পয়সা দিয়ে সেটি সারিয়েছিল। আবারও খারাপ হয়ে যায়। গ্ৰামের প্রান্তে একটা সাবমার্সিবল পাম্প বসানো হয়েছে। সেখানেও পর্যাপ্ত জল পাওয়া যায়না।’ আর এক বাসিন্দা প্রতিমা মণ্ডলের কথায়, ‘গ্ৰামের মেয়েদের ঘরের সব কাজ করে দূর থেকে বালতি অথবা কলসিতে করে জল আনতে হয়। দেখুন, আমাদের হাতে কেমন কালশিটে পড়ে গিয়েছে।আমাদের কষ্টের কথা কে শুনবে?’ দুবড়া গ্রামটি একটি উদাহরণ। জামবনী ব্লকের বিভিন্ন এলাকা এখন থেকেই তীব্র জল সঙ্কটের কবলে।যেমন, ধড়সা গ্ৰাম পঞ্চায়েতেরজামডহরী গ্ৰাম।বাসিন্দাদের অভিযোগ,  জলসঙ্কট মেটাতে জেলা পরিষদের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন। কোনও লাভ হয়নি।জামডহরী পশ্চিম আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দা ঠাকুর দাস হেমব্রম বলছিলেন, ‘এলাকায় একটি সাবমার্সিবল বসানো হয়েছিল।সপ্তাহখানেক ধরে জল উঠছে না। প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। এখনও পর্যন্ত কোনও হেলদোল নেই।’
দুবড়া গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান ধ্রুব জ্যোতি রানা বলেন, ‘গ্রামে জল সরবরাহের জন্য জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর পাম্প তৈরির কাজ শুরু করেছে।তবে সেই কাজও মাঝে মাঝে থমকে যাচ্ছে। গ্ৰাম পঞ্চায়েতের ২৬টি মৌজায় কম বেশি সবজায়গায় জলস্তর নেমে গিয়েছে।কালিন্দী এলাকায় জলস্তর আরও তলানিতে নেমে গিয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা টিউবওয়েল খারাপ হয়ে যাওয়ার কথা জানাননি। তবে, আমরা ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েছি। জেলা সভাধিপতি চিন্ময়ী মারান্ডি বলেন, ‘দুবড়া সহ একাধিক গ্ৰামে জলসঙ্কট মেটাতে সাবমার্সিবল বসানো হয়েছে।জলস্তর নেমে যাচ্ছে। গ্ৰামগুলিতে ট্যাঙ্ক পাঠিয়ে পানীয় জল সরবরাহ করা হবে।’  প্রতীকী চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ