Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ঢিলেমির রাজনীতি! অর্থ কমিশনের হাজার কোটি পাবে না বাংলা

কখনও আর্থিক অনিয়মের ধুয়ো তুলে বঞ্চনা। কখনও আবার হরেক শর্ত আরোপ করে রাজ্যের ন্যায্য প্রাপ্য আটকে রাখার বাহানা।

ঢিলেমির রাজনীতি! অর্থ কমিশনের হাজার কোটি পাবে না বাংলা
  • ৩০ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: কখনও আর্থিক অনিয়মের ধুয়ো তুলে বঞ্চনা। কখনও আবার হরেক শর্ত আরোপ করে রাজ্যের ন্যায্য প্রাপ্য আটকে রাখার বাহানা। কেন্দ্রের মোদি সরকার এভাবেই নিত্যনতুন কৌশলে বাংলাকে ‘ভাতে মারার’ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী সহ রাজ্যের প্রশাসনিক মহলের। রাজ্যকে কোণঠাসা করতে এবার সামনে এল ‘ঢিলেমির রাজনীতি’! পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রায় এক হাজার কোটি টাকা পাবেই না বাংলা। 

Advertisement

কেন এই আশঙ্কা? চলতি আর্থিক বছর (২০২৫-২৬) শেষ হচ্ছে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের মেয়াদ। অথচ এই খাতের নগরোন্নয়নের টাকা ছাড়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের গড়িমসি অব্যাহত। ১০ লক্ষের কম জনসংখ্যার পুরসভাগুলির জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেতে কালঘাম ছুটছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের। এক মাস আগে ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট (ইউ সি) এবং সমস্ত নথি সহ আবেদন জানিয়ে কোনও লাভ হয়নি। বৃহস্পতিবার ফের চিঠি পাঠিয়েছে রাজ্য। কেন্দ্রের এই ঢিলেমির কারণে রাজ্যের প্রায় এক হাজার কোটি টাকার প্রাপ্য হাতছাড়া হতে চলেছে। কারণ, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ শেষ হয়ে গেলে কোনও রাজ্যকে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে না কেন্দ্রের। চলতি অর্থবর্ষ শেষ হতে বাকি আর ১০ মাস। কেন্দ্র যদি ২০২৩-২৪’এর দ্বিতীয় কিস্তির টাকা জুন মাসেও দেয়, সেক্ষেত্রে চলতি অর্থবর্ষে বড়জোর ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের দু’টি কিস্তির টাকা পাওয়া যাবে। রাজ্যের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, একবার টাকা পাওয়ার পর পরের কিস্তির দাবি জানাতে অন্তত তিন মাস সময় লাগে। ফলে ২০২৫-২৬ সালের প্রাপ্য পাওয়ার আশা নেই বললেই চলে। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘আমরা সমস্ত তথ্য জমা দিয়েছি। তাহলে দ্বিতীয় কিস্তির টাকাটা আটকে রেখেছে কেন? ওরা ঢিলেমির রাজনীতি করছে।’ 
পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা দিতে রাজ্যের পুরসভাগুলিকে দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ১০ লক্ষের বেশি জনসংখ্যার পুরসভাগুলি ‘মিলিয়ন প্লাস সিটি’— কলকাতা, হাওড়া এবং আসানসোল পুরসভা। বাকি সমস্ত পুরসভাই ‘নন মিলিয়ন প্লাস সিটি’। এই পুরসভাগুলিকে এ পর্যন্ত ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের প্রথম কিস্তির টাকা দিয়েছে কেন্দ্র। সেক্ষেত্রেও বঞ্চনার শিকার হয়েছে একাধিক পুরসভা। কারণ, প্রথম কিস্তির টাকা (৩৫৭ কোটি) দেওয়া হয়েছিল ৮৮টি পুরসভার জন্য। নির্বাচন না হওয়ার কারণ দেখিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছিল বালি, দুর্গাপুর সহ ১৪টি পুরসভার বরাদ্দ। তাছাড়া, রাজ্যের জিএসডিপি বৃদ্ধির হারের তুলনায় সম্পত্তি কর আদায়ের হার কম হওয়ায় আটকে দেওয়া হয়েছিল ২৬টি পুরসভার টাকা। পরবর্তীকালে ১৬টি পুরসভা এই শর্ত পূরণ করে। তাই ৮৮টি পুরসভার জন্য ২০২৩-২৪ সালের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা চাওয়ার চিঠিতেই এই ১৬টি পুরসভার দু’টি কিস্তির টাকাও চাওয়া হয়েছে। সেই হিসেবে দ্বিতীয় কিস্তিতে মোট ৫২০ কোটি টাকা পাওয়ার কথা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ