নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: নতুন রুটে রামনবমীর র্যালি নিয়ে গেলেই আইনি পদক্ষেপ করা হবে। উৎসবের তিনদিন আগেই নিজেদের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করল আসানসোল দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেট। এখানেই থেমে থাকছে না তারা। রামনবমীর র্যালিতে কোনওরকম উস্কানিমূলক গান বাজানো হলেও নেওয়া হবে পদক্ষেপ, বরদাস্ত করা হবে না কোনও ধর্মীয় উস্কানিমূলক বক্তব্য। স্পষ্ট ভাষায় শোভাযাত্রার আয়োজনকারী কমিটিগুলিকে জানিয়ে দিচ্ছে পুলিস। প্রতি শোভাযাত্রায় থাকবেন একজন করে পুলিসের নোডাল অফিসার। শোভাযাত্রার ভিডিওগ্রাফি করার পাশাপাশি ড্রোনের সাহায্যেও চলবে নজরদারি। যাতে কেউ উস্কানি দিলেই পুলিস সহজে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করতে পারে। আসানসোল দুর্গাপুরের প্রতি থানা এলাকায় গিয়ে রামনবমীর আয়োজকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন পুলিসের শীর্ষকর্তারা। আসানসোল শিল্পাঞ্চলের মধ্যে বার্নপুরে রামনবমী উপলক্ষ্যে ঘটা করে শোভাযাত্রা বের হয়। এলাকাটি আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। এখানকার বিধায়ক বিজেপি রাজ্য সাধারণ সম্পাদিকা অগ্নিমিত্রা পল। যিনি রামনবমী নিয়ে আগেই গরম গরম কথা বলে রেখেছেন। সেই এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে রামনবমী শোভাযাত্রা সম্পন্ন করা পুলিসের কাছে চ্যালেঞ্জ। বুধবার রাতে প্রান্তিক ক্লাবের কাছে ডিসি, একাধিক এসিপি পদমর্যাদার অফিসাররা থানার ওসি, সিআইকে নিয়ে বৈঠক করেছেন। সেখানে ডাকা হয়েছিল শোভাযাত্রার আয়োজনের দায়িত্বে থাকা কর্তা ব্যক্তিদের। ডিসি সন্দীপ কাররা বক্তব্য রাখতে উঠে বলেন, তিনটি নিয়ম নেমে চলতেই হবে। প্রথমত, কোনওভাবেই নতুন রুটে শোভাযাত্রা নিয়ে যাওয়া যাবে না। তাহলেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, আপনারা গান বাজাতে পারেন, কিন্তু সেখানে কোনও উস্কানিমূলক গান বাজানো চলবে না। তা যদি হয় মিউজিক সিস্টেম তো বাজেয়াপ্ত করবই, আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে কমিটির বিরুদ্ধে। কেউ উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখলে তৎক্ষণাৎ কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। তৃতীয়ত, প্রতি র্যালিতে নোডাল অফিসার থাকবেন। তিনি যখন র্যালিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বলবেন, সেই সময়ে র্যালিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও মোড়ে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বিড়ম্বনা বাড়াবেন না। মনে রাখবেন, আপনার র্যালির জন্য সাধারণ মানুষকে আমাদের রাস্তায় আটকে রাখতে হয়। বৃহস্পতিবার কুলটি ক্লাবেও সন্দীপ কাররা কুলটি থানা এলাকার রামনবমীর আয়োজকদের সঙ্গে বৈঠক করে একই বার্তা দেন। একইভাবে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেটের সেন্ট্রাল জোনের ডিসি ধ্রুব দাসও জামুড়িয়া থানায় গিয়ে একই নির্দেশ দিয়ে এসেছেন। রামনবমী উপলক্ষ্যে এখন থেকেই শহরে সাজো সাজো রব। আসানসোলে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা হতে পারে, মুখ্যমন্ত্রীর এমন আশঙ্কার পরই পুলিস হাই অ্যালার্টে রয়েছে। রাস্তার উপর থাকা সিসি ক্যামেরাগুলির ফুটেজের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোথাও কোন অশান্তি পাকানোর পরিকল্পনা চলছে কি না, তা নজর রাখতে গোয়েন্দাদের সজাগ করা হয়েছে। ডিসি ট্রাফিক সতীশ পশুমূর্তি বলেন, গত বছর ৩২০টি র্যালি হয়েছিল। আমরা রামনবমীর দিন বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা রাখব।



