


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মোবাইল চুরির অপবাদে কিশোরকে উল্টো করে ঝুলিয়ে মারধর ও শক দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শাহেনশাহ জেরায় নানারকম তথ্য দিচ্ছে। তার লক্ষ্য, যাতে অফিসাররা বিভ্রান্ত হয়ে আসল জায়গা থেকে সরে যান। তাই মূল অভিযুক্তের ব্রেন ম্যাপিং করানোর বিষয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। সেই সূত্র ধরে জানা যাবে কিশোরকে মারধরের পর কী করা হয়েছিল।
দু’সপ্তাহ কেটে গেলেও রবীন্দ্রনগরের কিশোরের খোঁজ নেই। কারখানার মালিক শাহেনশাহ সহ পাঁচ অভিযুক্তকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরাও করেছেন তদন্তকারীরা। সকলেই পুলিসকে জানায় কিশোরকে মারধর তারা করেছে। কিন্তু সে কোথায় গেছে, সেটা তাদের জানা নেই। এভাবে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এখানেই রহস্য লুকিয়ে রয়েছে। ওই এলাকায় থাকা খালে কিশোরকে ফেলে দেওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। কারণ খালে ফেলে দিলে কিশোরের দেহ ভেসে যাবে। সেক্ষেত্রে তার দেহ মিলবে না। শাহেনশাহ একবার তদন্তকারীদের জানায়, কিশোরকে সে খালের ধারে নিয়ে গিয়েছিল। পরে সে সেই বয়ান বদল করে।
পলাতক অবস্থায় শাহেনশাহের ভাই ফিরোজ যে কিশোরের পরিবারকে ফোনে মিটমাট করার কথা বলেছিল, তা জেরায় স্বীকার করেছে। এখান থেকেই তদন্তকারীরা অনুমান করছেন, মারধর ও শক দেওয়ার পর কিশোরকে তারা সঙ্গে করে নিয়ে বেরিয়েছিল। যদি মিটমাট হয়ে যেত, তাহলে নাবালককে ছেড়ে দিত তারা। কিন্তু তাতে তার পরিবার রাজি না হওয়ায় তখনই কিশোরকে গুম করার সিদ্ধান্ত অভিযুক্তরা নিয়েছিল। যদিও এই বিষয়ে মুখ খুলছে না কেউই। মঙ্গলবারও ওই কিশোরের খোঁজে রবীন্দ্রনগর এলাকার একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় পুলিস। পরিত্যক্ত বিভিন্ন জায়গায় মাটি খুঁড়ে দেখা হয় সেখানে কিশোরকে পুঁতে দেওয়া হয়েছে কি না। যদিও সন্ধান মেলেনি।
ডায়মন্ডহারবার জেলা পুলিস সূত্রে খবর, কিশোর কোথায় রয়েছে তাই নিয়ে বিভ্রান্ত কাটাতে শাহেনশাহের ব্রেন ম্যাপিং করাতে চাইছেন অফিসাররা। যদিও এতে অভিযুক্তের অনুমতি লাগবে। তাতে শাহেনশাহ রাজি হলে আদালতে আর্জি জানাবেন তদন্তকারীরা। -ফাইল চিত্র