কাঠমাণ্ডু: রাজধানীর রাস্তায় হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ, পুলিসের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু, এমনকী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনেও হামলা। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞার জেরে তীব্র অশান্তির পর অবশেষে জনতার চাপে নতিস্বীকার সরকারের। সামাজিক মাধ্যম থেকে তুলে নেওয়া হল নিষেধাজ্ঞা। এমনিতে দুর্নীতি আর স্বজনপোষণের অভিযোগে ক্ষোভে ফুটছিল নেপালের নবীন প্রজন্ম। গত কয়েকদিন ধরে ‘নেপোকিড’, ‘নেপোবেবিজ’ দেওয়া হ্যাশট্যাগ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। জেন জেডের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের সন্তানরাই নেপালে সব সুবিধা ভোগ করে। এই পরিস্থিতিতে ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সের মতো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা সেই ক্ষোভের আগুনে যেন ঘি ঢালে। সোমবার সকাল থেকেই রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দেশের অন্যান্য প্রান্তে। বানেশ্বর, সিংহ দরবার, নারায়ণহিতি এবং স্পর্শকাতর সরকারি এলাকাগুলিতে কার্ফু জারি করে প্রধানমন্ত্রী কে পি ওলির প্রশাসন। দামাকে তাঁর বাসভবনও হামলা থেকে রেহাই পায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিউ বানেশ্বর এলাকায় সেনা নামাতে হয়। সন্ধ্যায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। শেষমেশ সোশ্যাল মিডিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল সরকার। দেশের তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী পৃথ্বি সুব্বা গুরুং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তিনি নবপ্রজন্মের কাছে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান। তাঁদের আন্দোলনের রাস্তা থেকে সরে আসারও পরামর্শ দেন। রাতের দিকে কাঠমান্ডু ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। প্রতিবাদীরাও ঘরে ফিরতে থাকেন। যদিও নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক।



