Bartaman Logo
২৯ মে, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

নেপালে পুলিশের গুলিতে হত ২১, চাপের মুখে উঠল নিষেধাজ্ঞা

রাজধানীর রাস্তায় হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ, পুলিসের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু, এমনকী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনেও হামলা।

নেপালে পুলিশের গুলিতে হত ২১, চাপের মুখে উঠল নিষেধাজ্ঞা
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৭:০৯

কাঠমাণ্ডু: রাজধানীর রাস্তায় হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ, পুলিসের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু, এমনকী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনেও হামলা। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞার জেরে তীব্র অশান্তির পর অবশেষে জনতার চাপে নতিস্বীকার সরকারের। সামাজিক মাধ্যম থেকে তুলে নেওয়া হল নিষেধাজ্ঞা। এমনিতে দুর্নীতি আর স্বজনপোষণের অভিযোগে ক্ষোভে ফুটছিল নেপালের নবীন প্রজন্ম। গত কয়েকদিন ধরে ‘নেপোকিড’, ‘নেপোবেবিজ’ দেওয়া হ্যাশট্যাগ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। জেন জেডের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের সন্তানরাই নেপালে সব সুবিধা ভোগ করে। এই পরিস্থিতিতে ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সের মতো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা সেই ক্ষোভের আগুনে যেন ঘি ঢালে। সোমবার সকাল থেকেই রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দেশের অন্যান্য প্রান্তে। বানেশ্বর, সিংহ দরবার, নারায়ণহিতি এবং স্পর্শকাতর সরকারি এলাকাগুলিতে কার্ফু জারি করে প্রধানমন্ত্রী কে পি ওলির প্রশাসন। দামাকে তাঁর বাসভবনও হামলা থেকে রেহাই পায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে  আনতে নিউ বানেশ্বর এলাকায় সেনা নামাতে হয়। সন্ধ্যায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে  পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। শেষমেশ  সোশ্যাল মিডিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল সরকার। দেশের তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী পৃথ্বি সুব্বা গুরুং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তিনি নবপ্রজন্মের কাছে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান। তাঁদের আন্দোলনের রাস্তা থেকে সরে আসারও পরামর্শ দেন। রাতের দিকে কাঠমান্ডু ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। প্রতিবাদীরাও ঘরে ফিরতে থাকেন। যদিও নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক।  

Advertisement

সোমবার দুপুরের দিকে কার্ফু উপেক্ষা করে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সংসদ ভবনের দিকে এগতে থাকে। অশান্তি ছড়ায় সেখানেও। ঘটনার একাধিক ছবি ও ভিডিও সামনে এসেছে। দেখা যাচ্ছে, বিক্ষোভকারীরা জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে গাইতে এগিয়ে চলেছেন। কারও হাতে ‘দুর্নীতি বন্ধ কর, সোশ্যাল মিডিয়া নয়’ লেখা প্ল্যাকার্ড। কারও হাতে আবার লেখা ‘সোশ্যাল মিডিয়ার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কর।’ উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ  প্রথমে জল কামান ব্যবহার করে। তাতে কাজ না হওয়ায় রাবার বুলেট এবং কাঁদানে গ্যাসের সেল ছোড়া হয়।  কিন্তু জনতাকে থামানো যায়নি। শেষপর্যন্ত সংসদ ভবন চত্বরে ঢুকে পড়েন অনেকেই।  বাধা পেয়ে রাস্তাতেই টায়ারে আগুন লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। সেই অবস্থায় পুলিশ গুলি চালালে ২১ জনের মৃত্যু হয়। শতাধিক মানুষ জখম হন। কাঠমাণ্ডু পুলিশের মুখপাত্র শেখর কানাল বলেন, ‘সংরক্ষিত এলাকা থেকে বিক্ষোভকারীদের হটাতে কাঁদানে গ্যাস এবং জল কামান ব্যবহার করা হয়েছে।’ 
এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আসলে মত প্রকাশের অধিকারের উপর সরাসরি হস্তক্ষেপ।’ ২৪ বছরের যুজান রাজভাণ্ডারী বলেন, ‘নেপালে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদে পথে নেমেছি।’ 

সম্পর্কিত সংবাদ