নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: সোনা ব্যবসায়ীকে খুনের দিন নিউটাউনের ফ্ল্যাটে নাকি রাজগঞ্জের বিডিও-সহ ছজন হাজির ছিলেন। তার মধ্যে বিডিওর গাড়িচালক এবং ঠিকাদার বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু, উপস্থিত ছজনের মধ্যে বিডিও বাদে বাকি তিনজন কারা ছিলেন? তাঁদের পরিচয় খুঁজছে পুলিশ ও গোয়েন্দারা। সূত্রের খবর, যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, ঘটনার কথা তারা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে। জেরায় পুলিশকে তারা জানিয়েছে, ফ্ল্যাটেই মারধর করা হয়েছিল সোনা ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে। সেখানেই খুন হন তিনি! এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ধৃত দুজনের প্রত্যক্ষ যোগ মিলেছে। তাদের জেরা করা করা হচ্ছে। বাকিদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
সল্টলেক দত্তবাদে স্বপন কামিল্যার সোনার দোকান। ভাড়ায় নিয়েছিলেন দোকানঘর। তাঁর আসল বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুর থানার বিলমাধিয়া গ্রামে। অভিযোগ, গত ২৮ অক্টোবর দত্তাবাদ থেকে স্বপনবাবুকে অপহরণ করা হয়। নিউটাউনের ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে মারধর করে খুন করা হয় তাঁকে। ২৯ অক্টোবর নিউটাউনের যাত্রাগাছি থেকে স্বপনবাবুর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একদিন পর ৩১ অক্টোবর অপহরণ করে খুনের ঘটনায় রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন-সহ অন্যদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে মৃতের পরিবার। যদিও বিডিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তবে, দুদিন আগে বিডিওর গাড়ি চালক রাজু ঢালি এবং ঠিকাদার বন্ধু তুফান থাপাকে গ্রেফতার হওয়ায় আরও চাপে পড়ে গিয়েছেন অভিযুক্ত বিডিও। কারণ, ধৃত ‘কান’দের টানলেই ‘মাথা’ চলে আসবে। ধৃতদের ১২ দিনের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশের কাছ থেকে এই মামলার তদন্তভার নিয়েছে বিধাননগর কমিশনারেরে গোয়েন্দা শাখা। এক আধিকারিক বলেন, ২৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর, সল্টলেকের দত্তবাদ, নিউটাউনের এবি ব্লকের ফ্ল্যাট, নিউটাউনের যাত্রাগাছি, কলকাতা এয়ারপোর্ট প্রভৃতি এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তাতে গুরুত্বপূর্ণ নথিও মিলেছে। তদন্ত চলছে। শীঘ্রই বাকি বিষয় সামনে আসবে।