সংবাদদাতা, ডোমকল: রানিনগরে কিশোর খুনের অভিযোগে ধৃত আরিফ শেখের আচরণে বিস্মিত পুলিস আধিকারিকরা। পেশাদার না হয়েও খুনের অভিযোগে ধরা পড়ে কেউ যে এমন স্বাভাবিক থাকতে পারে তা তাঁরা ভাবতেই পারছেন না। দশম শ্রেণির ছাত্র রবিউলকে খুন করে এসে বাড়িতে সে স্বাভাবিকই ছিল। তার আচার ব্যবহারে বাড়ির কেউই ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি যে, সে এমন একটা জঘন্য কাজ করে এসেছে। স্নান করে পরিবারের লোকের সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবেই কথাবার্তা বলেছে। তবে ছিঁচকে চুরির অভ্যেস যে তার আগে থেকেই ছিল তা জানতে পেরেছেন পুলিস কর্তারা। তদন্তকারীরা এখন খুনের মোটিভ জানতে মাথা ঘামাচ্ছেন। দু’টি সম্ভাবনা তাঁদের মনে উঁকি দিচ্ছে। আড্ডা শেষে কিশোরের মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা পেয়েই কি তাকে খুন করে আরিফ? নাকি, নেপথ্যে রয়েছে ত্রিকোণ প্রেম!
প্রসঙ্গত, বুধবার দুপুরে রানিনগরের মুন্সিপাড়ায় রবিউল শেখ নামের এক কিশোরের নলিকাটা দেহ উদ্ধার হয়। ওই ঘটনার তদন্তে নেমে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাতলামারি এলাকার একটি বাঁশবাগান থেকে আরিফ শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ধৃত খুনের বিষয়টি স্বীকার করেছে বলেই দাবি পুলিসের।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেল, আরিফের বাড়ি থেকে কিলোমিটার দুয়েক দূরে বাড়ি রবিউলের। রবিউলের পাড়ায় মাঝেমধ্যেই ক্যারম খেলতে ঢুঁ মারত আরিফ। একাধিকবার চুরির ঘটনায় নাম জড়িয়েছে তার। চুরির দায়ে জেলও খেটেছে। আরিফ ও রবিউলকে লোকে একসঙ্গে ঘুরতে না দেখলেও, পুলিসের একটি সূত্র বলছে তারা একে অপরের পরিচিত। একটি বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, বুধবার ঘাস কাটার সময় দু’জনের কথাবার্তাও হয়েছে। দু’জনে কথাবার্তা একসঙ্গে বসে ধূমপানও করেছে। এরপরই কোনও একটি বিষয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। হতে পারে সেই ঝামেলার কারণেই রবিউলকে খুন করে বসে আরিফ। তবে সেই ঝামেলার কারণ স্পষ্টভাবে না উঠে এলেও নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে তদন্তকারী এক আধিকারিক জানান, যা উঠে আসছে তাতে এখনও পর্যন্ত মেয়ে সংক্রান্ত ঝামেলা বলেই মনে হচ্ছে। ওরা দু’জনেই এলাকার এক মেয়ের প্রেমে পড়েছিল। সেই সূত্রেই ওদের মধ্যে ঝামেলা হয়ে থাকতে পারে। তবে এলাকায় শান্ত, ভদ্র হিসেবে পরিচিত রবিউল ত্রিকোণ প্রেমের কারণে খুন হয়েছে, এই তত্ত্ব মানতে নারাজ মৃতের পরিবার। রবিউলের মামা জামাল হোসেন বলেন, প্রেমের যে বিষয়টি বলা হচ্ছে তা সঠিক নয়। প্রেম, ভালোবাসা বোঝার মতো বয়স ভাগ্নের হয়নি। আমার মনে হচ্ছে মোবাইল নিয়েই ওদের ঝামেলা হয়েছিল। ওই মোবাইলটি নেওয়ার জন্যই ভাগ্নেকে খুন করে থাকতে পারে অভিযুক্ত।
তবে স্পষ্ট কারণ না পেলেও অভিযুক্তের স্বাভাবিক আচরণই অবাক করছে অভিযুক্তের পরিবার থেকে পুলিসের একাংশকে। বুধবার খুনের পর একেবারে স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই বাড়িতে ঢুকেছিল সে। আচার আচরণ থেকে কথাবার্তা কিছুতেই অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করেননি বাড়ির লোকজন। বাড়িতে ঢুকে স্নান সেরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। রবিউলের মোবাইল বিক্রি করতে কাতলামারির একটি দোকানে যায়। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই আরিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ছেলের এই কাজে ক্ষুব্ধ আরিফের বাবা ইয়ারুলস শেখ। তিনি বলেন, আমি ছেলের ফাঁসি চাই। ছেলের এইসব কাজে আমি অতিষ্ঠ। ওর শাস্তি হোক। পুলিস জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জেরা করে খুনের কারণ জানার চেষ্টা হচ্ছে।