নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মোবাইল চুরির অপবাদে সন্তোষপুরে যে শিশু শ্রমিককে উল্টো করে ঝুলিয়ে মারধর ও বিদ্যুতের শক দেওয়া হয়েছিল, সাতদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও তার কোনও খোঁজ নেই। কারখানায় তার দেহ পোঁতা থাকতে পারে, এই আশঙ্কায় তদন্তকারীদের একটি টিম শুক্রবার সকালে সেখানে গিয়ে খোঁড়াখুঁড়িও করেন। কিন্তু কিছুই পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে এলাকায় থাকা পুকুর ও জলাশয়েও তল্লাশি চালানো হয়। ওই নাবালক গেল কোথায় এটাই বড় করে ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। এদিকে কারখানার জমির মালিক সঞ্জু ঘোষ পুলিসের কাছে দাবি করেছেন, গত সোমবার এলাকায় এসে শাহেনশা কিশোরকে খুঁজতে যাবে বলে বাইক চেয়েছিল তাঁর কাছে। শনিবার কারখানা বন্ধ করে চলে যাওয়ার পর হঠাৎ সোমবার এসে সে বাইক চাইল কেন, তাই নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। তাহলে কি কিশোরের দেহ অন্যত্র সরানোর পরিকল্পনা ছিল? সেটাই জানার চেষ্টা চলছে। এদিকে ওই কিশোরকে দ্রুত খুঁজে বের করার জন্য উত্তর দিনাজপুর জেলা কংগ্রেস কমিটির সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত ইসলাম পুলিস জেলার এসপিকে চিঠি পাঠিয়েছেন।
শিশু শ্রমিককে মারধর ও ইলেকট্রিক শক দেওয়ার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শাহেনশাহ ও তার আত্মীয়রা জেরায় বারবার বয়ান বদল করছে। থানেতে দীর্ঘ জেরায় শাহেনশা দাবি করেছিল, মারধর ও শক খাওয়ার পর ওই নাবালক পালিয়ে যায়। তবে তাকে যে পরিকল্পনা করেই মারধর করা হয়েছে, তা স্বীকার করেছে শাহেনশা। এমনকী এও দাবি করেছে, ওই শিশু শ্রমিক পালানোর পর তার ইসলামপুরের বাড়িতে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। যদিও তাদের মোবাইলের কল ডিটেইলস বিশ্লেষণ করে ওই কিশোরের পরিবারের কাছে কোনও ফোন যাওয়ার প্রমাণ পায়নি পুলিস। তবে পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা বুঝতে পারছেন, কিশোর একা বেরিয়ে যায়নি। আর ইলেকট্রিক শক দেওয়ার পর ১৪ বছরের এক নাবালকের পক্ষে একা বেরিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। শাহেনশাই তাকে নিয়ে গিয়েছে, এই বিষয়ে অনেকটাই নিশ্চিত তাঁরা। মারধরে মৃত্যুর পর তাকে কোথাও ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। পুলিসের অনুমান, স্থানীয় এলাকায় যে খাল রয়েছে, তাতে তাকে ভাসিয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে তাকে খুঁজে পাওয়া বেশ মুশকিল। কারণ জলের তোড়ে সে কোথায় গিয়েছে, তা বের করা কঠিন কাজ। কারখানায় পুঁতে দেওয়ার আশঙ্কা করেই তদন্তকারীরা সেখানে গিয়ে মাটি খোঁড়াখুঁড়ি করেন। তাতেও কোনও লাভ হয়নি। কলকাতায় নিয়ে এসে শাহেনশা ও তার আত্মীয়দের জেরার পর এই বিষয়ে একটা সূত্র বের হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আজ, শনিবার তাদের কলকাতায় আসার কথা রয়েছে। তারপর তাদের কারখানার ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হবে। তদন্তকারীরা জানতে চাইবেন, মারধর ও শক দেওয়ার পর অভিযুক্তরা কিশোরের সঙ্গে ঠিক কী করেছিল।