শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: শিশুগুলি থাকে রেল লাইনের ধারের বস্তিতে। কেউ প্ল্যাটফর্মে রাত কাটায়। একটু বড় হওয়ার পর এদের কেউ ভিক্ষা করতে বেরয়। অনেকে নেশা করতে শুরু করে। অসামাজিক কাজেও নাম লেখায় কেউ। কিন্তু তারা যেহেতু শিশু, মন নিষ্পাপ, সমাজের কলঙ্কের দাগ তাদের গায়ে সহজে লাগতে দিতে নেই। প্রজাপতির রঙিন পাখার মতো রঙিন মন তাদের। এ কথা ভেবে তাদের জন্য একটি ব্যতিক্রমী কাজ করেছেন এক ব্যক্তি। ‘প্রজাপতির পাঠশালা’ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছেন রাজ্য পুলিশের এক কর্মী। অবহেলিত শিশুদের জীবনের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে বারাসতে নিজের বাড়ির ছাদে গড়ে তুলেছেন বিনামূল্যের শিক্ষাকেন্দ্র। কনস্টেবল অর্ণব রায়চৌধুরী এখন ওই অসহায় শিশুগুলির কাছে আশার আলো। তাঁকে ওরা ডাকে, ‘পুলিশকাকু’ বলে।
অর্ণববাবুর পাঠশালায় শুধু পড়াশোনা হয় তা নয়। গান, নাচ, কবিতা আবৃত্তি থেকে জিমন্যাস্টিক হয়। হাতের কাজ শেখে বাচ্চারা। মেকআপ করাও শিখতে পারছে। পাঠশালার এক একজন প্রজাপতিকে নিয়ে ডিউটির পর ফাঁকা সময়টা ব্যয় করেন বারাসত এসডিপিও অফিসে কর্মরত অর্ণব রায়চৌধুরী। ১৫ বছর আগে এক দুপুরে প্ল্যাটফর্মের কাছে এক শিশুকে খাবার চেয়ে রক্তাক্ত হতে দেখেছিলেন অর্ণববাবু। ঘটনাটি মনে প্রভাব ফেলে। তারপর এই অসহায় শিশুদের শিক্ষার আলোয় নিয়ে আসা, স্বাবলম্বী করে তোলার শিক্ষা দিতে প্রজাপতির পাঠশালা শুরু করেন।
বারাসত স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম কিংবা রেলবস্তির শিশুদের অসহায়তা চাক্ষুষ করেন তিনি। দেখেছেন নেশা করার প্রবণতাও। তিনি শিশুদের বাড়ি নিয়ে আসতেন। পড়াতেন। ২০১৯ সালে পুলিশে চাকরি পান। এখন প্রতি রবিবার বাড়ির ছাদে পাঠশালা বসে। ৪৫ শিশু পড়াশোনা করে। তাদের খাওয়া-দাওয়া, বই-খাতা দেন অর্ণব। এক দশক ধরে বহু শিশু সেখানে পড়েছে। অনেকে বড় হয়েছে। স্বাবলম্বী হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে এখন কারখানায় কাজ করে। কেউ সবজি বিক্রি করে। অর্ণববাবু বলেন, ‘বিশ্বাস করি এরাই আগামী দিনে ভালো মানুষ হয়ে উঠবে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমি ওদের নিয়ে যাই। ওরাই আমার সব।’