নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: পরীক্ষায় বসার আগে ‘ইন্টারভিউ’! শুনতে অবাক লাগলেও আগামীকাল রবিবার রাজ্যজুড়ে কনস্টেবল নিয়োগের পরীক্ষায় এমন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার আগেই নেওয়া হবে ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্স। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে বলতে হবে নিজের নাম, ঠিকানা ও রোলনম্বর। তারপরেই বসতে পারবে পরীক্ষায়। প্রক্সি দেওয়া পরীক্ষার্থী ঠেকাতেই এমন কড়াকড়ি বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এক আধিকারিকের কথায়, কারও নাম ভাঁড়িয়ে যদি কোনও পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েও যায় তাঁকে চিহ্নিত করতে এই ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের ইন্টারভিউয়ে ডাকা হলে ক্যামেরায় ধরা থাকা প্রি-ইন্টারভিউয়ের ছবি ও তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। তাতে গরমিল দেখা গেলে সেই মতো সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রবিবার গোটা রাজ্যের পাশাপাশি বীরভূম জেলার ১১১টি কেন্দ্রে কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থী কনস্টেবল নিয়োগের পরীক্ষা দেবেন। সেই তালিকায় তৃতীয় লিঙ্গের কয়েকজন পরীক্ষার্থীও রয়েছেন। নির্বিঘ্নে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে এর আগে একাধিক বৈঠক করছেন জেলার পুলিশ সুপার আমনদীপ। পুলিশ-প্রশাসন যৌথ বৈঠকও হয়েছে। শুক্রবারই বোলপুর মহকুমার পুলিশের পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে বোলপুর শহরে বৈঠক করেন মহকুমা শাসক অনিমেষকান্তি মান্না। জেলার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, নির্বিঘ্নে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সবরকম পদক্ষেপ করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রের খবর, এবারের পরীক্ষায় ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্স নেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ার জন্য ওয়েবেলকে দায়িত্ব দিয়েছে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড। পরীক্ষা শেষে সেই ফুটেজ পাঠিয়ে দেওয়া বোর্ডের কাছে।
চাকরিপ্রার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে হবে সাড়ে দশটার মধ্যে। সকাল আটটা থেকেই পরীক্ষাকেন্দ্রের দরজা খুলে দেওয়া হবে। প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর আধার কার্ড নিয়ে আসা বাধ্যতামূলক। যিনি আধার কার্ড দেখাতে পারবেন না, তাঁকে বিশেষ চেকিংয়ের মুখোমুখি হতে হবে। ওএমআর শিটে হবে পরীক্ষা। কেন্দ্র থেকেই পেন দেওয়া হবে পরীক্ষার্থীদের। যাঁরা গার্ড দেবেন, তাঁরা পরীক্ষাকেন্দ্রে নিজেদের মোবাইল সঙ্গে রাখতে পারবেন না। পরীক্ষাকেন্দ্রে যে সমস্ত পুলিশকর্মীরা মোতায়েন থাকবেন, তাঁদের কাছে থাকবে বিশেষ পরিচয়পত্র। আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে কনস্টেবল নিয়োগের পরীক্ষার মাধ্যমে রাজ্যে কর্মসংস্থানের বার্তা দিতে চাইছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। মোট প্রায় ১২ হাজার শূন্যাপদের জন্য রাজ্যজুড়ে কয়েক লক্ষ চাকরিপ্রার্থী এই পরীক্ষায় বসবেন। এবারেই প্রথম কনস্টেবল নিয়োগের পরীক্ষায় সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ ও অন্যান্য সহযোগী পুলিশকর্মীরা বসতে পারবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁদের জন্য ১৫ শতাংশ কোটা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সর্বোচ্চ বয়ঃসীমা রাখা হয়েছে ৩৫ বছর। ফলে বহু দিন ধরে চাকরি করা সিভিক বা ভিলেজ পুলিশরাও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।