নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ‘জেলাজুড়ে একই স্বর, বাল্যবিবাহ রদ কর’। এই স্লোগানকে সামনে রেখে বুধবার বীরভূম জেলাজুড়ে সমস্ত স্কুলে নির্দিষ্ট সময়ে বেজেছে ঘণ্টা। শপথবাক্য পাঠ করেছে সব স্কুলের পড়ুয়ারা। পরিবেশিত হয়েছে নাটকও। তবে, সিউড়ির কড়িধ্যা যদুরায় মেমোরিয়াল অ্যান্ড পাবলিক ইনস্টিটিউশন বাল্যবিবাহ রোধে আরও একধাপ এগিয়ে গিয়েছে। বিয়ের কাজে সরাসরি জড়িত পুরোহিত, মৌলবি ও ক্ষৌরকারদেরও এদিন শপথবাক্য পাঠ করানো হয়েছে। সেইসঙ্গে তাঁদের হাতে শপথ বৃক্ষ হিসেবে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়েছে। সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) বিশ্বজিৎ মোদক সহ একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক ও স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা উপস্থিত ছিলেন।
স্কুলের কন্যাশ্রীর নোডাল শিক্ষক বিদ্যুৎ মণ্ডল বলেন, আমরা নিয়মিত বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছি। ইতিমধ্যে আমরা উদ্যোগ নিয়ে প্রায় ছ’জন ছাত্রীকে স্কুলমুখী করেছি। তাদের মধ্যে একজনের বিয়ের তোড়জোড়ও শুরু হয়েছিল।
এদিন মানব পুতুল নাটকের মাধ্যমে বাল্যবিবাহের কুফল তুলে ধরা হয়েছে। বাল্যবিবাহ রোধে জেলা প্রশাসনের ডাকে সাড়া দিয়ে অন্যান্য স্কুলের পাশাপাশি যদুরায় মেমোরিয়াল কর্তৃপক্ষও একাধিক কর্মসূচি নিয়েছিল। বাল্যবিবাহের কুফল বোঝাতে স্কুল প্রাঙ্গণে রীতিমতো ছাদনাতলা গড়ে তোলা হয়েছিল। সেখানেই বর-কনের বেশে পড়ুয়ারা বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ডাক দেয়। তাদের স্বরে গলা মিলিয়েছিল স্কুলের অন্যান্য পড়ুয়ারও।
আশাকর্মী থেকে শুরু করে স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য সহ ডেকরেটরকর্মীদের এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বাল্যবিবাহে তাঁরা যেন কোনওভাবেই শামিল না হন, সে বিষয়ে তাঁদেরও সচেতন করে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়েছে। তাঁদের হাতেও শপথ বৃক্ষ হিসেবে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে বাল্যবিবাহ রোধে স্কুলের পড়ুয়াদের অগ্রণী ভূমিকা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতি দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় পড়ুয়াদের উৎসাহিত করতে ঘোষণা করেছেন, বাল্যবিবাহের আগাম খবর স্কুলে পৌঁছে দিলে সেই পড়ুয়ার ভর্তি ফি মুকুব করা হবে।