


মুম্বই: ওভারটাইম করতে নারাজ। শরীরটাও অসুস্থ। তাই আর বিমান চালাতে পারবেন না পাইলট। এর জেরে বাধ্য হয়েই শুক্রবার রাতে জলগাঁও থেকে মুম্বই ফেরার পথে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধেকে। কয়েক রাউন্ড আলোচনার পর অবশ্য শেষমেশ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেয় বিমানটি। তবে একনাথ সিন্ধের এই দেরি হয়ে যাওয়ায় আদতে শাপে বর হল। সিন্ধে যখন অপেক্ষা করছিলেন, সেইসময় এক কিডনি রোগী ও তাঁর স্বামী মুম্বই যাওয়ার আবেদন জানান। আগের বিমান ধরতে পারেননি তাঁরা। আর দেরি হলে বড়সড় বিপদ হয়ে যেত। বিষয়টি শুনেই দ্রুত তাঁদের ওই বিমানে নিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত করেন উপ মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন জলগাঁওয়ের মুক্তাইনগরে সন্ত মুক্তাইয়ের পালকি যাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন সিন্ধে। সেখান থেকে মুম্বই যাওয়ার ছিল কথা ছিল তাঁর। সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রী গিরীশ মহাজন ও গুলাবরাও পাতিলও। কিন্তু বিমানে উঠতে গিয়েই সমস্যা দেখা দেয়। বেঁকে বসেন পাইলট। জানান, ডিউটির নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গিয়েছে। ওভারটাইম করতে পারবেন না তিনি। তাছাড়া শরীরটাও ঠিক নেই। এর জেরে জলগাঁওতে আটকে পড়েন সকলে। তড়িঘড়ি সংশিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে কথা বলা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর শেষমশ মুম্বইয়ের উদ্দেশে রওনা দেয়ে বিমানটি।
আর এই দেরির জেরেই প্রাণ বাঁচল এক কিডনি রোগীর। একনাথ সিন্ধে যখন অপেক্ষা করছিলেন, সেইসময় শীতল বোরাডে নামে এক রোগীর পরিবারের তরফে উপ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। নির্ধারিত সময়ের বিমানটি তাঁরা ধরতে পারেননি। কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের জন্য যেভাবেই হোক রাতের মধ্যেই মুম্বই পৌঁছতে হবে তাঁদের। বিষয়টি শোনা মাত্র তড়িঘড়ি বন্দোবস্ত করেন উপ মুখ্যমন্ত্রী। দলের দুই কর্মীর অন্যভাবে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। আর তাঁদের সিটেই মুম্বই যান ওই রোগী ও তাঁর স্বামী। এমনকী মুম্বই বিমানবন্দরে একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখার নির্দেশও দেন সিন্ধে।