নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মিন্তা দেবী। বয়স ১২৪ বছর। প্রথমবারের ভোটার। বিহারের এই চমকপ্রদ তথ্যকেই হাতিয়ার করে নির্বাচন কমিশনকে বিঁধল বিরোধীরা। মঙ্গলবার সংসদের অন্দর-বাইরে এসআইআর ইস্যুতে উত্তাল করল কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, এনসিপি (এসপি)র সহ ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা। সোমবার নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর ঘেরাও কর্মসূচির ঐক্যবদ্ধ শক্তি প্রদর্শনের পর এদিনও বিরোধীদের মজবুত অবস্থানই তুলে ধরা হল। সংসদ চত্বরে মকর দ্বারের সামনে সাদা গেঞ্জিতে মিন্তাদেবী ১২৪, নট আউট লিখে চলল প্রদর্শন। বিক্ষোভ হল লোকসভার অন্দরেও।
বিক্ষোভে রাহুল গান্ধী না থাকলেও পরে তিনি এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘পিকচার আভি বাকি হ্যায়। নির্বাচন কমিশন কী করে ভোট চুরি করেছে, একে একে তা তুলে ধরা হবে। ধৈর্য্য ধরুন। স্রেফ কর্ণাটকের একটি আসনেই নয়। দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে জালিয়াতি হয়েছে। দেখতে পাবেন, মোদি কী করে ভোট চুরি করে নির্বাচন জিতেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এক ব্যক্তি এক ভোট, এই নীতিই কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে। এটাই আমাদের দাবি। অথচ নির্বাচন কমিশন সেই কাজটাই করছে না।’
একে একে পরত খোলার ইঙ্গিত দিতেই এদিন সংসদ চত্বরের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পেঁয়াজের মালা আর পেঁয়াজ দিয়ে সাজানো পদ্মফুল হাতে হাজির হয়েছিল বিরোধীরা। নির্বাচন কমিশন আর বিজেপির যোগসাজোশের অভিযোগও তুলল। প্রিয়াঙ্কার সওয়াল, নির্বাচন কমিশন যদি কোনও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত নয়, তাহলে বিরোধীদের দাবি মেনে ডিজিটাল ভোটার তালিকা দিচ্ছে না কেন? কমিশনের তালিকাতেই তো মিন্তা দেবীর বয়স ১২৪ বছর। তাহলেই বুঝুন। আগামী দিনেও এসআইআর ইস্যুর প্রতিবাদ জিইয়ে রাখা হবে বলেই এদিন সকালে বিরোধীদের বৈঠকে স্থির হয়েছে। আগামী ১৭ আগস্ট রাহুল বিহারে পদযাত্রা শুরু করবেন। বিহারের ২০ জেলায় হবে ভারত জোড়োর ধাঁচে এসআইআর ইস্যুতে প্রতিবাদ যাত্রা।