নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শিল্পাঞ্চল জুড়ে চলছে তীব্র জল সঙ্কট। প্রতি দিনই নতুন নতুন এলাকায় জল সমস্যা প্রকট হচ্ছে। সমস্যা নিয়ে নাজেহাল প্রশাসন। অন্যদিকে ইসিএলও জল সরবরাহের দায়িত্বে থেকে অনেক জায়গায় হাত গুটিয়ে নিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আসানসোল মহকুমাতে ইসিএলের যতগুলি এরিয়া রয়েছে, সেখানকার জেনারেল ম্যানেজারদের বৈঠকে ডাকেন মহকুমা শাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য। বৈঠকে ডাকা হয়েছিল মহকুমার প্রতিটি ব্লকের বিডিও এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিদের। পানীয় জলের সমবণ্টন নিয়ে বৈঠকে জোর দেওয়া হয়। অভিযোগ, কিছু জায়গায় জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তর ও ইসিএল দু’পক্ষেরই পানীয় জলের সংযোগ রয়েছে। অন্যদিকে কোনও কোনও জায়গায় পানীয় জলের কোনও ব্যবস্থাই নেই। সেই সব জায়গা চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।
আসানসোলের মহকুমা শাসক বলেন, জল সমস্যা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কোন এলাকায় জল সমস্যা রয়েছে। কোথায় অতিরিক্ত পানীয় জল পৌঁছচ্ছে তার রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। তা তৈরি হয়ে গেলেই জলের সমবণ্টনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। যে এলাকায় জল সঙ্কট প্রবল, সেখানে ইসিএলের ট্যাঙ্কার সরবরাহ করবে। তাই দিয়ে পিএইচই জল দেবে।
আসানসোল মহকুমার অধিকাংশ ব্লকেই রয়েছে কয়লা খনি। সালানপুর, বারাবানি, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া চারটি ব্লকে রয়েছে ইসিএলে সালানপুর, সাতগ্রাম, কুনুস্তোড়িয়া, কেন্দার এরিয়া। কোটি কোটি টাকার কয়লা তুলে বিপুল মুনাফা করে ইসিএল। মাটির থেকে কয়লা তোলায় জলস্তর তলানিতে। তার জেরে পানীয় জলের হাহাকার এলাকায়। নিয়ম অনুযায়ী কোনও কর্পোরেট সংস্থার প্রজেক্টের পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জল ও আলোর সরবরাহ করার কথা তাঁদের। প্রথমে সেই মতোই ইসিএলে জল ও বিদ্যুৎ দিত। অভিযোগ উঠছে, বহুক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব থেকে সরে আসছে তারা। তার জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। এই অবস্থায় মহকুমা শাসক কো-অর্ডিনেশন বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রবার বিকালে মহকুমা শাসক অফিসে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই বার্তা দেওয়া হয়েছে, ইসিএলকে জল সরবরাহের দায়িত্ব পালন করতে হবে। যে সব জায়গায় জলের হাহাকার পড়েছে, সেই সব এলাকায় তারা ট্যাঙ্কার সরবরাহ করবে। কোন পঞ্চায়েত এলাকায় কত ট্যাঙ্কারের প্রয়োজন, তার তালিকা শীঘ্রই তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। যাতে জলের অপচয় না হয় এবং প্রয়োজনে মানুষ পর্যাপ্ত জলটুকু পান।