Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

পিজির ক্যানসার হাব জানুয়ারিতে, টাটা মেমোরিয়ালের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দ্বিতীয়টি উত্তরবঙ্গে

আগামী বছর গোড়াতেই চালু হতে চলেছে পিজির বহুপ্রতীক্ষিত ক্যানসার হাসপাতাল বা ক্যানসার হাব। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে হাসপাতালটি চালুর লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পিজির ক্যানসার হাব জানুয়ারিতে, টাটা মেমোরিয়ালের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দ্বিতীয়টি উত্তরবঙ্গে
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ ১৭:১১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী বছর গোড়াতেই চালু হতে চলেছে পিজির বহুপ্রতীক্ষিত ক্যানসার হাসপাতাল বা ক্যানসার হাব। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে হাসপাতালটি চালুর লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আপাতত হাসপাতালটির প্রথম পর্যায় বা আউটডোর ভিত্তিক চিকিৎসা শুরু হচ্ছে। ২০২৬ সালের শেষার্ধের মধ্যে পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে ইনডোর বা আইপিডি। একথা জানিয়েছেন পিজির ক্যানসার হাবের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডাঃ অলোক ঘোষ দস্তিদার। প্রসঙ্গত, দেশের এক নম্বর মুম্বইয়ের টাটা মেমোরিয়াল ক্যানসারের সহযোগিতা রাজ্যে দু’টি সরকারি হাইটেক ক্যানসার হাসপাতাল গড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মধ্যে একটি হওয়ার কথা ছিল পিজিতে। অন্যটি উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে। পিজির মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট এবং বিভিন্ন স্তরের চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের শীঘ্রই মুম্বইয়ে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হবে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।      

Advertisement

পিজি সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ক্যানসার হাব বাড়ির প্রথম দুটি তলায় আউটডোর ও রেডিয়োথেরাপি দেওয়ার কাজকর্ম শুরু হবে। বাড়ির বাকি আটতলা দ্রুত সম্ভব শেষ করা হবে। এই বাড়িতেই ধাপে ধাপে চলে আসবে কেমোথেরাপি দেওয়ার ইনডোর এবং ডে কেয়ার ব্যবস্থা, যা আপাতত চলছে পিজির অংশ কলকাতা পুলিস হাসপাতালে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এখানে একই ছাতার তলায় অঙ্গভিত্তিক আলাদা আলাদা গুরুত্বপূর্ণ ক্যানসারের জন্য‌ আলাদা আউটডোর চলবে। যেমন ফুসফুসের ক্যানসার, হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসার, সার্ভাইক্যাল ক্যানসার, মাসকিউলোস্কেলিটাল ক্যানসার প্রভৃতি। অত্যাধুনিক লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর (লাইন্যাক), ব্র্যাকিথেরাপি, সিটি সিম্যুলেটর-সহ নানা আধুনিক যন্ত্রপতির মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু হবে। রেডিয়েশন অঙ্কোলজি, সার্জিক্যাল অঙ্কোলজি-সহ ক্যানসার সংক্রান্ত সমস্ত বিভাগগুলিও চালু হবে নয়া ক্যানসার হাবে। 
হাসপাতাল সূত্রের খবর, সিটি সিম্যুলেটর ইতিমধ্যেই চলে এসেছে। দুটি লাইন্যাক এবং ব্র্যাকিথেরাপি মেশিনও বিদেশ থেকে শহরে চলে এসেছে। পিজিতে আসা শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।  পিজির এক পদস্থ সূত্র জানিয়েছে, শুধু ক্যানসারের আধুনিক যন্ত্রপাতি খাতেই এখানে রাজ্য বহন করছে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা (জিএসটি-সহ)। এর মধ্যে দুটি লাইন্যাকেরই দাম সাড়ে ২৬ কোটি করে প্রায় ৫৩ কোটি টাকা। সিটি সিম্যুলেটরটির দাম প্রায় সওয়া ৬ কোটি টাকা। ব্র্যাকিথেরাপির দাম সওয়া ৪ কোটি টাকা। এছাড়া এখনও পর্যন্ত বাড়ির নির্মাণহেতু সিভিল ও ইলেকট্রিক্যালের কাজে আরও ১৮-২০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। অন্যান্য খাতে খরচ ধরলে মোট খরচ প্রায় ১০০ কোটি ছুঁয়ে ফেলবে। 
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এর মধ্যে লাইন্যাকের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে দূর থেকে আক্রান্ত অংশের ‘রে’ দেওয়া যাবে। এতে আক্রান্ত কোশ বাদে বাকি অংশের  ক্ষতি ন্যূনতম হয়। ব্র্যাকিথেরাপিতে বাইরে থেকে আক্রান্ত অংশে নয়, একবারে শরীরের আক্রান্ত অংশের ভিতর ‘রে’ দেওয়া হয়। আর কীভাবে কোন ডোজে ‘রে’ দেওয়া হবে, তা স্থির করে সিটি সিম্যুলেটর। ক্যানসার হাবের চেয়ারম্যান ডাঃ দস্তিদার বলেন, প্রচলিত চিকিৎসা ছাড়াও ইমিউনোথেরাপি-সহ আরও কিছু আধুনিক থেরাপির চিকিৎসাও এখানে হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ