Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফর্মে ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর রাতে ভিডিও কল মহিলা বিএলওদের, কমিশনের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ বাঁকুড়া শহরের বহু শিক্ষিকা

অপরপ্রান্ত থেকে এক যুবক অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণের বাহানায় নানাভাবে তাঁকে বিরক্ত করতে থাকে।

ফর্মে ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর রাতে ভিডিও কল মহিলা বিএলওদের, কমিশনের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ বাঁকুড়া শহরের বহু শিক্ষিকা
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: সারাদিনের কাজের হিসেবের রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে সবে খাওয়াদাওয়া সেরেছেন বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দা এক মহিলা বুথ লেভেল অফিসার(বিএলও)। হঠাৎ করেই তাঁর মোবাইল বেজে উঠল। দ্বিধা নিয়েই অপরিচিত নম্বর থেকে আসা ভিডিও কল ধরলেন পেশায় শিক্ষিকা ওই বিএলও। অপরপ্রান্ত থেকে এক যুবক অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণের বাহানায় নানাভাবে তাঁকে বিরক্ত করতে থাকে। যুবকের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই শিক্ষিকা ফোন কেটে দেন। তবে, এই ধরনের অভিজ্ঞতা অন্যান্য মহিলা বিএলওদেরও হচ্ছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় তাঁরা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাঁদের অনুমতি না নিয়েই ই঩নিউমারেশন ফর্মে ব্যক্তিগত ফোন নম্বর ছেপে দেওয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন আদালতে যাবেন বলেও জানিয়েছেন।

Advertisement

ওই শিক্ষিকা বলেন, প্রশিক্ষণের সময় আমাদের কাছে মোবাইল নম্বর চাওয়া হয়েছিল। ওই নম্বরে শুধুমাত্র ওটিপি আসবে বলে আমাদের জানানো হয়। সেইমতো আমরা ব্যক্তিগত ফোন নম্বর দিয়েছিলাম। পরে ইনিউমারেশন ফর্মে তা ছেপে দেওয়া হয়। এতে আমাদের ‘রাইট টু প্রাইভেসি’ বিঘ্নিত হয়েছে। এসআইআর সংক্রান্ত নানাবিধ রিপোর্ট পাঠানো ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে মোবাইল ফোন সুইচড অফ করতে পারছি না। ফোনের ইন্টারনেট সংযোগও চালু রাখতে হচ্ছে। সেই সুযোগ নিয়ে মাঝরাত পর্যন্ত অনেকে আমাদের বিরক্ত করছে। এরফলে আমাদের ব্যক্তি জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমি ব্লক নির্বাচন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত এক আধিকারিককে লিখিত অভিযোগ করেছি। তিনি অভিযুক্ত এক যুবককে ধমকও দিয়েছেন। কিন্তু তারপরেও সমস্যা মিটছে না।
অপর এক শিক্ষিকা বলেন, আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য নিয়মিত কলকাতায় যেতে হচ্ছে। তারমাঝেও বারবার ফোন আসছে। কোনও কারণে ফোন ধরতে না পারলে পরবর্তী সময়ে কুকথাও শুনতে হচ্ছে। আমার সমস্যার কথা প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। আমি উচ্চ আদালতে মামলা করার ব্যাপারে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করছি। বিএলওর কাজের জন্য কমিশন আমাদের পৃথক সিমকার্ড দিতে পারত। এভাবে ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর হাজারেরও বেশি ফর্মে ছাপিয়ে দেওয়া উচিত হয়নি।
বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন তথা নির্বাচন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, এব্যাপারে লিখিত অভিযোগ জমা পড়লে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএলওদের সমস্যা হলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।
উল্লেখ্য, গত দু’সপ্তাহ ধরে বাঁকুড়ায় ১০০ শতাংশ ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি হয়ে গিয়েছে। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিএলওরা ফর্ম বিলি করেছেন। এমনিতেই ময়দানে নেমে তাঁদের নানা ঝক্কি সামলাতে হচ্ছে। কমিশন ওই ফর্মে বিএলওর নাম ও ফোন নম্বর ছেপে দিয়েছে। তা মহিলা বিএলওদের বিড়ম্বনায় ফেলেছে। বিনা প্রয়োজনে নিছক মজার ছলেও অনেকে ফর্ম সম্পর্কে জানতে চাইছেন। ফর্ম পূরণ হয়ে যাওয়ার পরেও নানা অছিলায় মহিলা বিএলওদের ফোন করে বিরক্ত করা হচ্ছে। ভিডিও কলের মাধ্যমে রাতে ফর্ম পূরণের আবদার সবকিছুকেই ছাপিয়ে গিয়েছে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ