Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পদ্মার ভাঙনে সর্বহারা মানুষের ঠাঁই খোলা আকাশের নীচে, ঠান্ডায় জবুথবু

পদ্মার বিধ্বংসী ভাঙনে ছাদ হারিয়ে লালগোলার তারানগরের বেশ কিছু পরিবার খোলা আকাশের নীচে আশ্রয় নিয়েছিল।

পদ্মার ভাঙনে সর্বহারা মানুষের ঠাঁই খোলা আকাশের নীচে, ঠান্ডায় জবুথবু
  • ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৭:১২
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: পদ্মার বিধ্বংসী ভাঙনে ছাদ হারিয়ে লালগোলার তারানগরের বেশ কিছু পরিবার খোলা আকাশের নীচে আশ্রয় নিয়েছিল। উদ্বাস্তু ওই পরিবারগুলি নদী পার্শ্ববর্তী এলাকায় খোলা জায়গায় কনকনে ঠান্ডাও দিন গুজরান করছে এক চিলতে ত্রিপলের নীচে। পুনর্বাসনের অপেক্ষায় দিন গুনছেন জুবুথুবু অসহায় মানুষগুলো। তাদের বুকের ভিতরে ক্ষোভ জমাট বাঁধলেও প্রকাশের ভাষা নেই। লালগোলার বিডিও দেবাশিস মণ্ডল বলেন, নদী ভাঙনে ভিটে হারানো পরিবারগুলির পুনর্বাসনের সমস্ত কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে। খুব শীঘ্রই পাট্টা দেওয়া হবে। মাস খানেক আগেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে শীতবস্ত্র দেওয়া হয়েছে। 

Advertisement

চলতি বছর ১৫ আগস্ট লালগোলা থানার বিলবোরাকোপরা গ্রাম পঞ্চায়েতের তারানগরে পদ্মার ভাঙন শুরু হয়। এক মাসের বেশি সময় ধরে লাগাতার নদী ভাঙনে কয়েশো বিঘা ফসলি জমি সহ আম, লিচু, কাঠাল বাগানের পাশাপাশি তলিয়ে যায় বাঁশ বাগান, জনপদ এবং শতাধিক বসতভিটে। ভাঙন বিধ্বস্ত পরিবারগুলির মধ্যে হাহাকার পড়ে যায়। গৃহস্থ ও কৃষক পরিবারগুলি এক মুহূর্তে সব হারিয়ে পথে এসে দাঁড়ায়। উদ্বাস্তু পরিবারগুলি আশ্রয় নেয় সরকারের উদ্যোগে গড়ে ওঠা শেখলিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও তারানগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ত্রাণ শিবিরে। কিন্তু প্রায় ১০টি পরিবার থেকে গিয়েছেন মাথার উপর এক ফালি ত্রিপল খাটিয়ে। প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে তাঁবুর নিচেই তাঁদের দিন গুজরান চলছে। সম্ভ্রম হারিয়ে ত্রাণ শিবিরে অনেকেই উঠতে পারেননি। এরকম পরিবারের হালেমা বিবি বলেন, ত্রাণ শিবিরে একটা ঘরে একসঙ্গে চার-পাঁচটি করে পরিবার থাকছে। আমরা সেখানে থাকতে পারব না বলে নদীর পাশে তাঁবু খাটিয়ে থাকছি। অগ্রহায়ণের শীত তার উপর নদীর উপর দিয়ে বয়ে যায় শিরশিরে বাতাস। ওই বাতাস আর ঠান্ডাতে জুবুথুবু অবস্থা তাঁবুর নীচে বসবাসকারি মানুষগুলোর। বয়স্ক ও শিশুদের ঠান্ডা লেগে শরীর খারাপ হচ্ছে। দুর্গত ওবাইদুর রহমানের দাবি, ঠান্ডার কষ্ট থেকে সারাদিন তাঁবুতে থাকার পর রাতে স্কুলে গিয়ে মাথা গুঁজি। এখন আমাদের গন্ডারের চামড়ার অবস্থা। ভিতরে ক্ষোভ থাকলেও তা প্রকাশের জায়গা নেই। লালগোলা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি লক্ষ্মী সরকার বলেন, মোট ১২৪ জনের নাম পাট্টার জন্য চূড়ান্ত হয়েছে। তাদের দ্রুত পাট্টা দেওয়া হবে।  অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের বাংলার আবাস প্রকল্পের জন্য মোট ১৩৮ জনের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিধায়ক মোহাম্মদ আলি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ