নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: মেমারি-২ পঞ্চায়েত সমিতির অফিস কার্যত ফাঁকা। কাজের জন্য অফিসে আসতে কাউকে দেখা গেল না। সভাপতি ময়না টুডু নিজের ঘরে বসে রয়েছেন। তাঁর দু’পাশে দু’টি চেয়ারে দু’জন। দু’দিন আগেই সংবাদমাধ্যমে তিনি অভিযোগ করেছেন, পদ পেতে তাঁকে কয়েক লক্ষ টাকা দিতে হয়েছে। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে মেমারিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এদিন অফিসে বসে তিনি নেতাদের বিরুদ্ধে তাঁর মনের কথা বলছিলেন। পদের বিষয়ে টাকা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলতেই তিনি বলেন, একটু অপেক্ষা করুন। এরপরই তিনি হাত দিয়ে আড়াল করে নিচু গলায় কাউকে ফোন করলেন। কথা শেষ হওয়ার পর তিনি বলেন, সরি, আমি কিছু বলতে পারব না। ওখান থেকে মুখ খুলতে নিষেধ করা হল। দু’দিন আগেই তো মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন, এখন কী হল? এই প্রশ্নের জবাবে সভাপতি বলেন, সেদিনও ওখান থেকে ফোন করে বলতে বলা হয়েছিল। তাই বলেছি। আমার উপর অনেক অত্যাচার হয়েছে। তখন তিনিই পাশে ছিলেন। তবে, ‘তিনি’ কে ? সেটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি স্পষ্ট করলেন না। তবে মেমারির রাজনীতি নিয়ে যাঁরা খবর রাখেন তাঁরা সবাই জানেন ‘তিনি’ কে। কয়েকদিন আগে আবার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী অভিযোগের সুরে বলেন, ‘কাটোয়া থেকে ছিপ ফেলা হচ্ছে’। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরেও তোলপাড় পড়ে যায়। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মেমারি-২ ব্লকেও শাসক দলের কোন্দল বহুদিন ধরেই তুঙ্গে রয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকে দলের একাংশ হেনস্তা করেছে। মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছিল। মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ গফ্ফর মল্লিকের আলাদা ‘লবি’ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। প্রভাবশালীর হাত মাথায় থাকায় কেউ তার টিকি ছুঁতে পারেনি। তিনি পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি। এদিন তিনিও অফিসে ছিলেন। তাঁর অফিসেও লোকজন ছিল না।



