Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রাম জুলজিক্যাল পার্কে সোমবার থেকে দেখা মিলবে পলাশ ও বল্লুদের

জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কে আগামী সোমবার থেকে পর্যটকরা চিতাবাঘ ‘পলাশ’, ভাল্লুক ‘বল্লু’, ডায়মন্ড ডাভ, লাভ বার্ড ও ব্ল্যাক ভালচার দেখতে পাবেন

ঝাড়গ্রাম জুলজিক্যাল পার্কে সোমবার থেকে দেখা মিলবে পলাশ ও বল্লুদের
  • ৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্ৰামে নববর্ষ পালনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কে আগামী সোমবার থেকে পর্যটকরা চিতাবাঘ ‘পলাশ’, ভাল্লুক ‘বল্লু’, ডায়মন্ড ডাভ, লাভ বার্ড ও ব্ল্যাক ভালচার দেখতে পাবেন। পার্কে সৃষ্টিশ্রী স্টলের উদ্বোধন করা হবে। নববর্ষে বন বিভাগের উপহারে উচ্ছ্বসিত জেলার মানুষ। ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, মাসখানেক আগে, জুলজিক্যাল পার্কে পূর্ণবয়স্ক একটি চিতাবাঘ ও ভাল্লুক বাইরে থেকে আনা হয়েছিল। এছাড়াও, নতুন প্রজাতির কিছু পাখি আমরা এনেছিলাম। পার্কে নতুন খাঁচা তৈরি করা হয়েছে। আগামী সোমবার থেকে পর্যটকরা নতুন অতিথিদের দেখতে পাবেন।

Advertisement

ঝাড়গ্রাম জুলজিক্যাল পার্কে একের পর এক বন্যপ্রাণী নিয়ে আসায় পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ছে। উত্তরবঙ্গের জলদাপাড়া অভয়ারণ্যের খয়রা পাড়া রেসকিউ সেন্টার থেকে মার্চ মাসে পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ ‘পলাশ’কে আনা হয়েছিল। এতদিন চিতাবাঘটিকে জুলজিক্যাল পার্কে আলাদা করে রাখা হয়েছিল। বাঁকুড়া থেকে ভাল্লুক ‘বল্লু’কে উদ্ধার করা হয়। পার্কের নতুন খাঁচায় আগামী সোমবার থেকে নয়া অতিথিদের রাখা হবে। সেখানে ডায়মন্ড ডাভ, লাভ বার্ড ও ব্ল্যাক ভালচারের দেখা মিলবে। ওইদিন বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা পার্কে সৃষ্টিশ্রী স্টলের উদ্বোধন করবেন। বাংলা নববর্ষে ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের  উপহারে উচ্ছ্বসিত জেলার মানুষ। সবুজ অরণ্যের মাঝে এই পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। উদ্ধার করে আনা বন্যপ্রাণীদের সুশ্রুষা করা হচ্ছে। তাদের প্রজননও হচ্ছে। জুলজিক্যাল পার্ক থেকে তাদের রাজ্যের অন্য চিড়িয়াখানায় পাঠানো হচ্ছে। গরমের সময় বন্যপ্রাণীদের জন্য বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়। গুড়জল, ওআরএস, শসা, তরমুজ, পেয়ারা ও অন্যান্য ফল দেওয়া হচ্ছে। খাঁচায় খড়ের ছাউনি দেওয়া হচ্ছে। গরমে মাংসাশী প্রাণীদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রয়োজনমতো মাংস দেওয়া হয়। ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের এক কর্তা বলেন, চিতাবাঘ, ভাল্লুক ও পাখিগুলিকে এতদিন আলাদা করে রাখা হয়েছিল। ভিন্ন পরিবেশে এসে মানিয়ে নিতে বন্যপ্রাণীদের কিছুটা সময় লাগে। তবে ওরা পার্কের পরিবেশে অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছে। জুলজিক্যাল পার্কে এখন ১৬টি আলাদা প্রজাতির ১৮৭টি স্তন্যপায়ী, ১২টি আলাদা প্রজাতির ১৫৩টি সরীসৃপ, ১৮টি আলাদা প্রজাতির ৭৪টি পাখি রয়েছে। পাখিদের মধ্যে রয়েছে রেড মুনিয়া, গোল্ডেন ওরিওলে, গ্রিন বি-ইটার, ক্রোফেজেন্ট, পারপেল নাইট হেরন। সঙ্গে দেখা মিলবে ডায়মন্ড ডাভ, ছোট প্রজাতির লাভ বার্ড ও ব্ল্যাক ভালচারেরও। পার্কে পর্যটকদের বসার জন্য জায়গা ছিল। এবার শেড দেওয়া বসার জায়গা তৈরি হয়েছে। সৃষ্টিশ্রী স্টলে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাতের তৈরি নানা জিনিস পাওয়া যাবে।
ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের প্রাক্তন কর্তা সমীর মজুমদার বলেন, জুলজিক্যাল পার্ক বন্যপ্রাণীদের অন্যতম প্রজনন ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। বাইরে থেকে নিয়ে আসা বন্য পশু-পাখিরা দ্রুত এখানে মানিয়ে নিচ্ছে। পার্কে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বনবিভাগের উদ্যোগ প্রশংসাজনক। স্বাভাবিক কারণেই জেলার এই পার্ক পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণস্থল হয়ে উঠেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ