নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সৈয়দ ও সহযোগী আমির হামজার অত্যন্ত ‘ঘনিষ্ঠ’ পাকিস্তানের এক কট্টর মৌলবাদী নেতা বাংলাদেশের বিভিন্ন অংশে লাগাতার ভারত বিরোধী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল শাহির সামশাদ মির্জার নেতৃত্বে পাক সেনার ছয় পদস্থ কর্তা এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন। বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস এখন সেই পাকিস্তানি ‘ভাইদের’ সামনে চরম ভারত বিরোধিতার নিদর্শন দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ইউনুস। এমনকী পাক সেনার সেকেন্ড ইন কমান্ড সামশাদ মির্জাকে উপযাচক হয়ে শিলিগুড়ির ‘চিকেন নেক’ করিডরের কাছে লালমনিরহাট বায়ুসেনা শিবির পরিদর্শনে যাওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন ইউনুস। তাতে সায় দিয়েছেন মির্জা। এপারের গোয়েন্দাদের নজরদারি বেড়েছে গোটা ঘটনাপ্রবাহের উপর। এমন একটা পর্বে লস্কর এবং আইএসআই ঘনিষ্ঠ পাক মৌলবাদী নেতার সীমান্তের বিভিন্ন অংশে ভারত বিরোধী প্রচার, চিন্তা বাড়িয়েছে এপারের গোয়েন্দাদের।
সূত্রের খবর, লাহোরের বাসিন্দা পাকিস্তানের মারকাজি জামিয়াত আহে লে হাদিথের প্রধান ওই মৌলবাদীর নাম ইবতিসাম ইলাহি জাহির। গত ২৫ অক্টোবর জাহির রাজশাহী এসে পৌঁছন। পরের দিন রবিবার, ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের রাজশাহী এবং সোমবার, ২৭ অক্টোবর মালদহ লাগোয়া চাঁপাই নবাবগঞ্জের নাচোলের ধর্মীয় সভায় ভাষণ দেন তিনি। দুটি সভা থেকেই ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জাহিরের ঘোষণা—‘ভাইয়ের থেকে ভাইকে আলাদা করেছে যারা, তারা জেনে রাখুক, আমাদের লড়াই ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল শক্তির বিরুদ্ধে চলবে। বলিদানের জন্য নিজেকে তৈরি রাখুন। তৈরি রাখুন সন্তানকেও।’
পহেলগাঁও গণহত্যার জেরে ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’এ নাস্তানাবুদ হয়ে পাকিস্তান এবার বাংলাদেশকে ‘এপি সেন্টার’ বানিয়ে জঙ্গিবাদকে মদত দেওয়ার কাজ শুরু করেছে—এ খবর পাচ্ছেন এপারের গোয়েন্দারা। মহম্মদ ইউনুসের পৃষ্ঠপোষকতাতেই যে পাক জঙ্গিদের বাড়বাড়ন্ত, চলতি বছরে এই নিয়ে পরপর দু’বার জাহিরের সফর তার প্রমাণ। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ধর্মীয় সভা করার অছিলায় ঢাকায় গিয়েছিলেন জাহির। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, সেবার তিনি দেখা করেছিলেন বাংলাদেশের এমন কয়েকজন বিতর্কিত ব্যক্তির সঙ্গে, যারা আইএসআই’এর মদতে ভারতকে খণ্ডবিখণ্ড করার পক্ষে মত প্রকাশ করছে। সোমবার চাঁপাই নবাবগঞ্জের নাচোলের সভা ধর্মীয় শিক্ষার জন্য হলেও, সেই মঞ্চ থেকে জাহির কাশ্মীর ইস্যুতে হুমকিও দিয়েছে ভারতকে। চোস্ত উর্দুতে বলেছেন—‘ভারত থেকে কাশ্মীর স্বাধীন হবে, সেই কাশ্মীর পাকিস্তানের অংশ হবেই।’ ৭১’এর মুক্তিযুদ্ধ পর্বে বাংলাদেশে যারা ‘রাজাকার’ বলে চিহ্নিত হয়েছিল, এমন বেশ কয়েকজনকে জাহিরের সঙ্গে দেখা গিয়েছে নাচোলের মঞ্চে।
এপারের গোয়েন্দারা জেনেছেন, ১২দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন ইলাহি জাহির। এই পর্বে যে কটা ধর্মীয় সভা তিনি করবেন, তার সব কটি এ রাজ্য লাগোয়া বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায়। কিন্তু কেন? সেটাই ভাবাচ্ছে গোয়েন্দাদের। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ, বুধবার ২৯ অক্টোবর থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত পাক মৌলবাদী নেতা সভা করবেন কোচবিহার-জলপাইগুড়ি সীমান্ত লাগোয়া রংপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারিতে। ১ নভেম্বর সভা হবে মুর্শিদাবাদ সীমান্ত লাগোয়া জয়পুরহাট ও ২ নভেম্বর মালদহ সীমান্ত লাগোয়া নওগাঁওতে। আগামী ৮ নভেম্বর পাকিস্তানে ফেরার কথা জাহিরের। তার মাঝে মহম্মদ ইউনুস সহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে ঢাকায় বৈঠক করার কথা তাঁর।