নয়াদিল্লি: ফের নিজেদের স্বরূপ দেখাল পাকিস্তান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দাঁড়িয়ে পরমাণু হামলার হুমকি দিয়েছেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির। ইসলামাবাদের এই ‘পরমাণু ব্ল্যাকমেল’ প্রবণতা নিয়ে পাল্টা সরব ভারতও। এর পরেই ভারতীয় হাই কমিশনের কূটনীতিবিদদের হেনস্তা করতে আসরে নামল ইসলামাবাদ। অভিযোগ, গ্যাস, পানীয় জল, সংবাদপত্রের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় ও অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যা ঘিরে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। ভারতীয় কূটনীতিবিদরা পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে ভিয়েনা কনভেনশন চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করেছে।
পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার কমান্ডের সুরক্ষা নিয়ে ভারত প্রশ্ন তুলতেই রীতিমতো ক্ষেপে যায় ইসলামাবাদ। পাল্টা জবাব দেওয়ার মুখ না থাকায় ভারতীয় কূটনীতিবিদদের ঘুরিয়ে হেনস্তা করার কৌশল নেওয়া হয়। সূত্রের খবর, ভারতীয় কূটনীতিবিদদের জল, গ্যাস সিলিন্ডারের মতো অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী সরবরাহ না করার জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতের উপর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে হাই কমিশন এবং সেদেশে বাসরত ভারতীয় কূটনীতিবিদদের বাড়িতে কাগজ দেওয়া বন্ধ করার নির্দেশও গিয়েছে স্থানীয় কাগজ বিক্রেতাদের কাছে। এখানেই শেষ নয়, ভারতীয় কূটনীতিবিদদের বাড়ি ও অফিসে অজ্ঞাতপরিচয় কিছু মানুষ বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। আর পর্দার আড়ালে থেকে এই সমস্ত কর্মকাণ্ডের কলকাঠি নাড়ছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। পাকিস্তানের এই নক্কারজনক ভূমিকার জবাব দিয়েছে ভারতও। নয়াদিল্লিতে কর্মরত পাক কূটনীতিবিদদের কাগজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর ইসলামাবাদের এহেন নির্লজ্জ পদক্ষেপ কিছুটা প্রত্যাশিতই ছিল। কারণ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে কূটনীতির ময়দান—কোথাওই ভারতের সঙ্গে এঁটে উঠতে না পেরে বাঁকা পথে ভারতীয় কূটনীতিকদের হেনস্তা করা শুরু করেছে পাকিস্তান। অবশ্য এই ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার পর নয়াদিল্লি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর পরেও একই ঘটনা ঘটেছিল। পাকিস্তানে কর্মরত ভারতীয় হাই কমিশনের কূটনীতিবিদদের হেনস্তা করে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল ইসলামাবাদ।