Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৩০০ বছরের বেশি পুরনো, কবিরাজবাড়ির কালীপুজো

তিনশো বছরের বেশি সময় ধরে মানকরের কবিরাজবাড়ির আনন্দময়ী কালীপুজোর আয়োজন হয়ে আসছে। কালীপুজোর দিন দেবীকে ১৯সের চালের নৈবেদ্য নিবেদন করা হয়।

৩০০ বছরের বেশি পুরনো, কবিরাজবাড়ির কালীপুজো
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুদীপ পাল: তিনশো বছরের বেশি সময় ধরে মানকরের কবিরাজবাড়ির আনন্দময়ী কালীপুজোর আয়োজন হয়ে আসছে। কালীপুজোর দিন দেবীকে ১৯সের চালের নৈবেদ্য নিবেদন করা হয়। কবিরাজ পরিবারের সদস্য রাজবল্লভ গুপ্ত ছিলেন বর্ধমানের রাজা উদয়চাঁদের কবিরাজ। কথিত আছে, একসময় রাজার মেয়ে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাজবল্লভ চিকিৎসা করে মেয়েকে সুস্থ করে তোলেন। রাজা খুশি হয়ে মানকরে তাঁদের বেশকিছু জমি প্রদান করেন। রাজবৈদ্য হিসেবে নিযুক্ত হন রাজবল্লভ গুপ্ত। তারপরে মানকরে বসবাস শুরু করেন তাঁরা। শুরু করেন আনন্দময়ী কালীর পুজো। পরিবারের সদস্যরা জানান, ভগ্নস্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্য ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরও কবিরাজ বাড়িতে দীর্ঘদিন থেকেছিলেন। সেই সময় মানকরে শিক্ষা প্রসারের বিষয়ে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। প্রতিষ্ঠা করেন বিদ্যালয়। এই বাড়িতে বাস করেছেন লর্ড ক্লাইভ থেকে রাজা রামমোহন রায়। প্রখ্যাত চিত্র পরিচালক মৃণাল সেন এই বাড়িকেই বেছে নিয়েছিলেন তাঁর বাইশে শ্রাবণ চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের জন্য। বাড়ির অনেক অংশই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তবে ঠাকুর দালানটি এখনও আগের মত‌ই দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

পরিবারের সদস্যরা জানান, আনন্দময়ীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে সুদূর কাশী থেকে মায়ের কষ্টিপাথরের মূর্তি নিয়ে এসেছিলেন রাজবল্লভ গুপ্ত। মূর্তির বিশেষত্ব হল এখানে শিব শায়িত রয়েছেন। শিবের নাভির উপরেই দেবী পদ্মাসনে অধিষ্ঠিত। মূর্তির উচ্চতা সাড়ে তিন ফুট। এক সময় দুষ্কৃতীরা এই মূর্তির উপর আঘাত করেছিল। দাঁইহাটের শিল্পী নবীন ভাস্কর মূর্তি পুননির্মাণ করেন। আনন্দময়ী মন্দিরের দু’পাশে শ্বেতপাথরের দু’টি শিবলিঙ্গ রয়েছে। পুজোর দায়িত্বে রয়েছেন পরিবারের গোপাল কবিরাজ, সুরজিৎ গুপ্ত, অভিজিৎ গুপ্তরা। তাঁরা জানান, প্রতি বছর পুজোর আগে মায়ের অঙ্গরাগ হয়।
অর্থাৎ মাকে রং করানো হয়। এই সময় কবিরাজ বাড়ির লোকেরা মন্দিরে ঢোকেন না। এখানে পুজো সন্ধ্যার মধ্যেই সম্পন্ন করতে হয়। কালীপুজোর দিন ১৯সের চালের নৈবেদ্য দেবীকে নিবেদন করা হয়। পরের দিন দেওয়া হয় পাঁচ সের চালের নৈবেদ্য দেওয়া হয়। পুজোর দিন মায়ের ভোগে লুচি এবং বিভিন্ন রকমের মিষ্টি দেওয়া হয়। এক সময় দেবী পুজোর পর ব্রাহ্মণ ভোজনের রীতি ছিল। বর্তমানে ব্রাহ্মণরা প্রসাদ বাড়িতে নিয়ে চলে যান। স্থানীয়দের বিশ্বাস আনন্দময়ীর পুকুরে রাতে নামা নিষিদ্ধ।
 এলাকার বাসিন্দা গৌরাঙ্গ হালদার বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই মূর্তি বিশেষ দেখা যায় না। তাই পুজো দেখতে স্থানীয় বাসিন্দারা ছাড়াও অন্যান্য জায়গা থেকে বহু মানুষ ভিড় জমান।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ