লিডস: ক্যাচ ধরো, ম্যাচ জেতো! ক্রিকেটের বেদবাক্য এটাই। ক্যাচ ফেলা মানে এর ঠিক উল্টোটা। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টেস্টে ভারতের জঘন্য ফিল্ডিং যার সেরা উদাহরণ। অন্তত ছয়টি ক্যাচ ফেলেছেন ফিল্ডাররা। তার মধ্যে তিনটিই পড়েছে যশস্বী জয়সওয়ালের হাত থেকে। আর চারবারই দুর্ভাগা বোলারের নাম যশপ্রীত বুমরাহ। এত ক্যাচ না পড়লে বুমবুম অনেক আগেই পাঁচ উইকেট তো পেতেনই, শিকারসংখ্যা আরও বাড়ত। সেক্ষেত্রে মাত্র ৬ রানের লিড নয়, রবিবার অনেক বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকত ভারত। মজবুত হতো ম্যাচে টিম ইন্ডিয়ার অবস্থান। কিন্তু এখন এই টেস্ট হয়ে উঠেছে এক ইনিংসের। তৃতীয় দিনের শেষে লিড দাঁড়িয়েছে ৯৬ রানে। হাতে আট উইকেট, সোমবার যতটা সম্ভব ব্যাটিং করাই নিশ্চিতভাবে ভারতের গেমপ্ল্যান। এই পিচে সাড়ে তিনশোও নিরাপদ নয়। আর স্টোকসরা রান তোলেন ঝড়ের গতিতে।
৪৭১ রানের পুঁজি নিয়েও যে ভারতকে কার্যত শূন্য থেকে শুরু করতে হচ্ছে, তার নেপথ্যে অবশ্য শুধু ফিল্ডিংই দায়ী নয়। বুমরাহকে বাদ দিলে দলের বাকি বোলিং যে একেবারে দুধে-ভাতে। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা তিন উইকেট নিলেও ওভার প্রতি খরচ করলেন ৬.৪০ রান। তাঁর ২০ ওভারে উঠল ১২৮! দু’উইকেট নেওয়া মহম্মদ সিরাজ দিলেন ১২২। আর শার্দূল ঠাকুরকে তো ছয় ওভারের বেশি বল দেওয়াই গেল না। তাহলে অলরাউন্ডার হিসেবে খেলানো কেন? এদিন ভারতীয় বোলিংয়ের দুরাবস্থা ধরা পড়ল কুৎসিতভাবে। ২৭৬ রানে পাঁচ উইকেট পড়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ডের। তখন মনে হচ্ছিল, অন্তত একশো রানের লিড মিলবে। কিন্তু ইংল্যান্ড থামল ৪৬৫ রানে। অথচ, ভারতের প্রথম ইনিংসে শেষ সাত উইকেট পড়ে মাত্র ৪১ রানে!
শতরানকারী ওলি পোপ ফিরেছিলেন সকালেই। কিন্তু দু’বার জীবন পাওয়া হ্যারি ব্রুকই বাধা হয়ে উঠলেন। শেষ পর্যন্ত শতরানের মুখ থেকে ফেরেন তিনি। তবে ওকস, কার্সের মতো টেলএন্ডাররা তার পরও ছেলেখেলা করলেন বোলিং নিয়ে। নেহাত বুমরাহ ছিলেন, নাহলে কী করুণ দশাই যে হতো! শনিবার বিপক্ষের প্রথম তিন উইকেট নিয়েছিলেন। এদিন ইংল্যান্ড যখন ভারতের রান টপকে যাওয়ার অবস্থায় তখনও তিনিই পরিত্রাতা। অনবদ্য দুটো ডেলিভারিতে ছিটকে দিলেন শেষ দুই উইকেট। এল টেস্ট কেরিয়ারের ১৪তম পাঁচ উইকেট। তার মধ্যে ১২টিই দেশের বাইরে। এই কীর্তিতে স্পর্শ করলেন কপিল দেবকে। তবে এর আগে কোনও এশিয়ান বোলার অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডে মিলিতভাবে দেড়শো টেস্ট উইকেট পায়নি। এক্ষেত্রে বুমরাহ অনন্য।
ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা অবশ্য একেবারেই ভালো হয়নি। প্রথম ইনিংসে শতরানকারী যশস্বী জয়সওয়াল খোঁচা দেন চতুর্থ ওভারে। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে লোকেশ রাহুল ও সাই সুদর্শন যোগ করেন ৬৬। শেষবেলায় সুদর্শন যদি ফের স্টোকসের শিকার না হতেন, শক্তিশালী দেখাত ভারতের অবস্থান। রাহুলকে অবশ্য জমাট দেখাচ্ছে। গিলের সঙ্গে তাঁর জুটি লম্বা হোক, এটাই সমর্থকদের প্রার্থনা।