Bartaman Logo
২৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

নির্বিষ বোলিংয়ে জয় হাতছাড়া ভারতের, শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজ দখল করেও অস্বস্তিতে গিলরা

আরও একবার প্রকট ভারতীয় বোলিংয়ের কঙ্কালসার চেহারা। দ্বিতীয় টেস্টের শেষ দিনে প্রতিপক্ষের চারটি উইকেটও ফেলতে পারলেন না সুথার-জাদেজারা

নির্বিষ বোলিংয়ে জয় হাতছাড়া ভারতের, শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজ দখল করেও অস্বস্তিতে গিলরা
  • ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কলম্বো: আরও একবার প্রকট ভারতীয় বোলিংয়ের কঙ্কালসার চেহারা। দ্বিতীয় টেস্টের শেষ দিনে প্রতিপক্ষের চারটি উইকেটও ফেলতে পারলেন না সুথার-জাদেজারা। শ্রীলঙ্কাকে ফলো-অন করিয়েও জিততে ব্যর্থ টিম ইন্ডিয়া। পঞ্চম দিনে গিল ব্রিগেডের সামনে রীতিমতো প্রাচীর হয়ে দাঁড়ালেন সোনাল দিনুশা। ২৫ বছর বয়সি বাঁ-হাতি ব্যাটারের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে দ্বিতীয় টেস্ট ড্র করল শ্রীলঙ্কা। দুই ইনিংসেই শতরান হাঁকিয়ে ম্যাচের নায়ক তিনি। ২৬৪ বলে দিনুশার ১৩৩ রানের ইনিংসের পরতে পরতে ফুটে উঠল বীরত্বের প্রতিচ্ছবি। আর তাতে শুধু ম্যাচ ড্র হল না, ভারতীয় বোলরাদের মুখেও লাগল চুনকালি। সেই সঙ্গে কঠিন হল টিম ইন্ডিয়ার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার পথ। ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতলেও ডব্লুটিসি পয়েন্ট টেবিলে পঞ্চম স্থানেই আটকে রইলেন শুভমানরা (৫১.৫২ পিসিটি)। ফলে আরও একবার কঠিন প্রশ্নের মুখে কোচ গৌতম গম্ভীর। বিরাট-রোহিত উত্তর পর্বে নতুন করে দল গুছিয়ে তুলতে আর কতদিন সময় লাগবে তাঁর?

Advertisement

প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ভারতের ৫০৩-এর জবাবে ২৯০ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। বিপক্ষকে ফলো-অন করাতে দু’বার ভাবেননি ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিল। বৃষ্টির ভ্রুকুটির কথা মাথায় রেখেই এমন সিদ্ধান্ত তাঁর। চতুর্থ দিন শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসে ২২৯ রানেই পড়ে গিয়েছিল ৬ উইকেট। সেদিক থেকে দেখলে গিলের সিদ্ধান্তকে ভুল বলার উপায় নেই। টেস্টের পঞ্চম তথা শেষ দিনে ৪ উইকেট ফেলতে না পারলে বোলারদের ‘ষষ্ঠীপুজো’ করা ছাড়া ক্যাপ্টেনের আর কী বা করার থাকে! সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবের মন্থর পিচেও বিবর্ণ দেখাল দুই বাঁহাতি স্পিনার সুথার, জাদেজাকে। অভিষেক ম্যাচে চরম হতাশ করলেন সারাংশ জৈনও। তাঁর থেকে শুভমান পর্যন্ত বেশি বল ঘোরালেন। পেসারদের কথা যত কম বলা যায়, ততই ভালো। আর এই দাঁত-নখহীন বোলিং কাজে লাগিয়ে চলতি সিরিজে আরও একবার ভারতের পথের কাঁটা হয়ে উঠলেন দিনুশা। তাঁর ধৈর্যশীল ইনিংসে ছিল দৃঢ়তা ও দায়িত্ববোধের মিশেল। টেইল এন্ডারদের আগলে কেড়ে নিলেন ভারতের মুখের গ্রাস।
পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনে কোনো উইকেট ফেলতে পারেনি ভারতীয় বোলাররা। স্কোরবোর্ডে যোগ হল ১০১ রান। বদলে গেল ম্যাচের চিত্র। ঋষভ পন্থ তো বেলের অদল-বদল ঘটিয়ে টোটকাও করে ফেললেন এক প্রস্থ। খানিক পর ধ্রুব জুরেল আরও এক ধাপ এগিয়ে হের-ফের করলেন স্টাম্প। তাতেও শিকে ছিঁড়ল না। শেষ পর্যন্ত লাঞ্চের পর কেশারা নুয়ান্থাকে (৪৬) ফিরিয়ে আশা জাগিয়েছিলেন সুথার। দরকার আর তিনটি উইকেট। টার্গেট দেড়শোর মধ্যে রেখে দ্বিতীয় সেশনে শ্রীলঙ্কাকে অল-আউট করতে পারলে জয়ের জন্য ঝাঁপানোর সুযোগ পেতেন জয়সওয়াল, পন্থরা। কিন্তু শ্রীলঙ্কার তরুণ ব্যাটার হার মানতে রাজি ছিলেন না। দাঁতে দাঁত চেপে দিনের শেষ বল পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেন দিনুশা। ৫ ম্যাচের টেস্ট কেরিয়ারে এটা তাঁর তৃতীয় শতরান। আর তিনটিই এসেছে চলতি সিরিজে। হার বাঁচানোর লড়াইয়ে তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিলেন লাহিরু কুমারা (৯০ বলে ১২ রান), অসিথা ফার্নান্ডোরা।
লজ্জার বিষয়, শ্রীলঙ্কার অন্তিম উইকেট ফেলতে পারেনি ভারতীয় বোলাররা। শেষ দিকে হাল ছেড়ে দিয়ে গিল, জয়সওয়াল, জুরেলরাও হাত ঘোরালেন। তাতেও নিট ফল শূন্য। ম্যাচ ড্র হলেও ভারতের কাছে এই ফল হারেরই শামিল। গিল-গম্ভীরদের উচিত দেশে ফেরার বিমানে বসে বিরাট কোহলির নেতৃত্বে ভারতের ম্যাচগুলির হাইলাইটস দেখা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ