নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচিতে একহাজার প্রকল্পের কাজ শুরু হবে নদীয়া জেলায়। ‘হাজার প্রকল্প, নদীয়ার সংকল্প’-এই লক্ষ্যে একদিনেই সেই সমস্ত কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার জেলাশাসকের অফিসে এই অভিনব উদ্যোগের কথা জানানো হয়। সেখানে জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত, জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মির, কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। ইতিমধ্যে ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু হয়ে গিয়েছে। আগামী ১৭অক্টোবর জেলাজুড়ে সেই একহাজার প্রকল্পের কাজ শুরুর দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়েছে। ওইদিন প্রতিটি ব্লকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হবে।
প্রশাসন জানিয়েছে, জেলাজুড়ে মোট ৫২৭৭টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে তেহট্ট মহকুমায় ৩২২, কৃষ্ণনগর সদর মহকুমায় ৫২৭, রানাঘাট মহকুমায় ২০২ ও কল্যাণী মহকুমায় ৫৩টি প্রকল্পের ওয়ার্ক অর্ডার ইতিমধ্যে ইস্যু হয়েছে। ১৭অক্টোবর এসমস্ত প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
জেলাশাসক বলেন, আগে নানা দপ্তর ও অর্থ কমিশনের টাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হতো। এবার মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগ বুথস্তরের মানুষের দাবির ভিত্তিতেই নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। যে সমস্ত প্রকল্প হলে বেশিরভাগ মানুষ উপকৃত হবেন, সেগুলিই বাছাই করা হয়েছে। জেলায় ইতিমধ্যে ৯০শতাংশ পাড়ায় সমাধান শিবির আয়োজিত হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি বাকি শিবির হয়ে যাবে। পাড়ায় সমাধানে জমা পড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত করাই আমাদের লক্ষ্য।
এদিন চাপড়া ব্লকের পিঁপড়াগাছি পঞ্চায়েতের একটি বিদ্যালয়ে পাড়ায় সমাধান শিবিরে যান জেলাশাসক, সাংসদ, সভাধিপতি সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা। তাঁরা সেখানে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। শিবিরে উপস্থিত মানুষ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের দাবি জানান।
এবিষয়ে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, আমরা চাপড়ায় একটি শিবিরে গিয়েছিলাম। সেখানে প্রথমে একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি একটি প্রকল্পের প্রস্তাব দেন। ওই শিবিরে আরও দু’জন মহিলা ছিলেন। তাঁদের কাছে কী কী উন্নয়নমূলক কাজ করা প্রয়োজন-সেকথা আমরা জানতে চাই। তাঁরা আমাদের জানান, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে আলো ও পাখা দরকার। সেইসঙ্গে কেন্দ্রটির চারপাশে একটি পাঁচিল দেওয়ার দাবিও জানান। এরপর আমরা উপস্থিত সবার কাছে জানতে চাই, কোনটি বেশি প্রয়োজন। তখন শিবিরে আসা বেশিরভাগ মানুষ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের উন্নয়নের প্রস্তাবেই সায় দেন। এটাই এই কর্মসূচির বিশেষত্ব।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নদীয়া জেলায় ১৭৮৫টি পাড়ায় সমাধান শিবির আয়োজন করার কথা রয়েছে। তার মধ্যে ১৫৮৭টি শিবির হয়ে গিয়েছে। প্রায় ১৫লক্ষ ৪৫হাজার মানুষ এসমস্ত শিবিরে এসেছেন। প্রতি বুথ থেকে গড়ে ৩৭১জন করে মানুষ শিবিরে অংশ নিয়েছিলেন।