নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ কার্যকর করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলবে সংসদীয় যৌথ কমিটি। বিজেপি সাংসদ পি পি চৌধুরীর সভাপতিত্বে কমিটির শীর্ষ সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। এক দেশ এক নির্বাচন করাতে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সেই মতো মোদি সরকার এনেছে ১২৯ তম সংবিধান সংশোধন বিল। বিস্তারিত খতিয়ে দেখতে বিষয়টি পাঠানো হয়েছে যৌথ সংসদীয় কমিটিতে। চলতি বাদল অধিবেশনের শেষ সপ্তাহেই কমিটির রিপোর্ট দেওয়ার কথা। কিন্তু তা হবে না। কমিটির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হবে। যা লোকসভা অনুমোদনও করবে বলেই জানা গিয়েছে।
এখনও পর্যন্ত কমিটি ন’টি বৈঠক করেছে। বাকি ১০ দিন স্টাডি ট্যুর। আগামী ১৯ তারিখ বৈঠকে দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। এরই পাশাপাশি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজনের থেকেও এক দেশ এক নির্বাচন বিষয়ে মতামত নেওয়া হবে বলেই জানা গিয়েছে। একসঙ্গে লোকসভা-বিধানসভা ভোট হলে ভারতের আর্থিক প্রভাব কী পড়তে পারে, ইত্যাদি বিষয় তাঁর থেকে বুঝতে চায় কমিটি। কমিটিতে মোট ৪১ জন সদস্য রয়েছেন।
জানা গিয়েছে, যৌথ কমিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদেরও মতামত জানতে চায়। সেই মতো স্টাডি ট্যুরে পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা হয়েছে। যদিও তার কোনও সময়-তারিখ ঠিক হয়নি। উল্লেখ্য, এক দেশ এক নির্বাচনের বিপক্ষে তৃণমূল সুপ্রিমো। সেই মতো তাঁর বেঁধে দেওয়া লাইন মেনেই যৌথ সংসদীয় কমিটিতে প্রথমদিন থেকেই সরব তৃণমূল। তাদের আপত্তি, সময়কাল বা মেয়াদ নিয়ে। কোনও সরকার নির্দিষ্ট পাঁচ বছরের মেয়াদের আগে পড়ে গেলে ভোট হবে ঠিকই, কিন্তু তার সময়কাল পাঁচ বছর নয়। বাকি সময়ের জন্য। অর্থাৎ কিছুটা উপনির্বাচনের ধাঁচ। যা সংবিধান বিরোধী বলেই তৃণমূলের মত। সহমত কংগ্রেস সহ বিরোধীরাও। তাই আরও বিস্তারিত আলোচনা করেই রিপোর্ট দিতে চান পি পি চৌধুরী।