সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: পুরনো রিজার্ভার ভেঙে দেওয়ায় বিষ্ণুপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ধারে থাকা পানীয় জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। জল না পেয়ে বিভিন্ন মোড়ের ব্যবসায়ীরা চরম সঙ্কটে পড়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, বিকল্প ব্যবস্থা না করেই ট্যাপকলে জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় তীব্র গরমে তাঁরা ভীষণ জলকষ্টে ভুগছেন। দূর থেকে জল বয়ে আনতে হচ্ছে।
বিষ্ণুপুর পুরসভার চেয়ারম্যান গৌতম গোস্বামী বলেন, পুরনো রিজার্ভার ভাঙা হচ্ছে। সেই কারণে রাস্তার ধারে ট্যাপকলগুলিতে জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। নতুন রিজার্ভারের সঙ্গে শুধুমাত্র বাড়ি বাড়ি পাইপলাইন যুক্ত রয়েছে। তবে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলব। তবে অধিকাংশ মোড় এলাকায় পানীয় জলের জন্য টিউবওয়েল রয়েছে। তাই খুব একটা অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
বিষ্ণুপুর শহরের এক্সচেঞ্জ মোড়ের খাবারের দোকানের এক মালিক বলেন, সারাদিন প্রচুর জল লাগে। এতদিন মোড়ে থাকা ট্যাপকল থেকে জল নিতাম। কিন্তু, কয়েকদিন আগে থেকে ওই ট্যাপকলে আর জল পড়ছে না। বিকল্প ব্যবস্থা করার জন্য পুরসভায় জানানো হয়েছে। কিন্তু, কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এই গরমে দূর থেকে জল বয়ে আনতে হচ্ছে।
স্থানীয় ও পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুর শহরে ৪০বছরেরও বেশি পুরনো দু’টি রিজার্ভার ছিল। একটি পুরসভার সামনে অপরটি কুমারী টকির সামনে। ওই রিজার্ভার থেকে শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে রাস্তার ধারে ট্যাপকলে জল সরবরাহ করা হতো। তবে এতদিনের পুরনো রিজার্ভার দু’টি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় সম্প্রতি তা ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। অবশ্য তার আগেই দুই জায়গাতেই নতুন দু’টি রিজার্ভার তৈরি করা হয়েছে। তবে ওই রিজার্ভার থেকে কেবলমাত্র বাড়ি বাড়ি জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কুমারী টকির কাছে থাকা পুরনো রিজার্ভার ভেঙে ফেলা হয়েছে। তাই ওই রিজার্ভারের সঙ্গে যুক্ত থাকা পুরসভার ১, ২ ও ৩নম্বর ওয়ার্ডে বিভিন্ন বাজারে থাকা ট্যাপকলে জল পড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাতেই ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, কর্মাশিয়াল হিসেবে দোকানে দোকানে পাইপলাইনে জলের সংযোগ দেওয়া হলে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। তবে তার আগে রাস্তার ধারে থাকা ট্যাপকলগুলি নতুন রিজার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত করে তা চালু করা হোক। -নিজস্ব চিত্র