Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অপরাধী ধরতে এবার সব রেলস্টেশনে ফেস রেকগনিশন ক্যামেরা

অপরাধ করে রেলস্টেশন দিয়ে পালানো রুখতে উদ্যোগী হল সরকার। এমনসব ঘটনায় রাশ টানা হচ্ছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে।

অপরাধী ধরতে এবার  সব রেলস্টেশনে ফেস রেকগনিশন ক্যামেরা
  • ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অপরাধ করে রেলস্টেশন দিয়ে পালানো রুখতে উদ্যোগী হল সরকার। এমনসব ঘটনায় রাশ টানা হচ্ছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে। ডাকাতি, খুন বা অন্য ধরনের অপরাধমূলক কাণ্ড ঘটিয়ে  দেশের যেকোনো রেলস্টেশন ব্যবহার করলে এবার ধরা পড়ে যাবে অপরাধী। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্ল্যাটফর্মে হাজির হয়েছে, এই সংকেত পৌঁছে যাবে কন্ট্রোল রুমে। এর জন্য হাওড়া, শিয়ালদহসহ রাজ্যের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে বসছে ফেস রেকগনিশন ক্যামেরা। এর কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহজেই অপরাধীকে চিহ্নিত করে ফেলা যাবে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে।

Advertisement

হাওড়ার তবলাবাদক সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় খুনের ঘটনায় গুজরাত থেকে ধরা পড়েছে রাহুল ওরফে ভোলু। সে বিভিন্ন ট্রেনে একের পর এক খুন করে বেড়াচ্ছিল। সেক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্মগুলিই ছিল তার থাকার ঠিকানা। তাকে ধরতে রীতিমতো কালঘাম ছুটেছিল বিভিন্ন রাজ্য পুলিশের। ১৮টি সিরিয়াল কিলিংয়ে অভিযুক্ত চন্দ্রকান্ত ঝা। সে খুন করার পর এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পালাতে ট্রেনই ব্যবহার করে থাকে। এরকম অজস্র উদাহরণ রয়েছে, যেখানে অপরাধীরা পালানোর জন্য বেছে নিয়েছে রেলস্টেশনকেই। রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন বৈঠকে উদ্বেগের সঙ্গে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে, রেলস্টেশনের ভিড়ে দুষ্কৃতীরা কীভাবে মিশে যাচ্ছে।
রেলপুলিশ সূত্রের খবর, এই রাজ্যসহ দেশের যেকোনো প্রান্তে অপরাধী ধরা পড়লেই একটি পোর্টালে তা তুলতে হয়। পলাতক অভিযুক্তের ছবিও আপলোড করা থাকে সেখানে। যেকোনো রাজ্য চাইলেই এই পোর্টালে লগইন করে সংশ্লিষ্ট অপরাধীর বিষয়ে তথ্য জেনে নিতে পারে।  কেন্দ্রীয় এই তথ্য ভাণ্ডারকেই কাজে লাগাতে চাইছে রেলপুলিশ। এজন্য রেলের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। 
প্রতিটি স্টেশনে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু করেছে রেল। এই ক্যামেরারই সাহায্য নেবেন রেলপুলিশের অফিসাররা। এটার মাধ্যমে ফেস রেকগনিশন করা  যাবে। এই ক্যামেরার সঙ্গে ওই পোর্টালের তথ্য ভাণ্ডার সংযুক্ত থাকবে। স্টেশনে কোনো অভিযুক্ত এলেই ক্যামেরায় ধরা পড়বে সেই ছবি। এআই প্রযুক্তি ওই অভিযুক্তের মুখের ছবির সঙ্গে তথ্য ভাণ্ডারের মুখের ছবি মিলিয়ে দেখবে। সেখান থেকে চিহ্নিত করে দেবে অপরাধীকে এবং কোন ঘটনায় তার খোঁজ চলছে বলে দেবে সেটাও। এই বার্তা পৌঁছে দেবে কন্ট্রোল রুমে। সেখানে সংকেত আসার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট রেলস্টেশনের জিআরপি অফিসারদের জানানা হবে, অভিযুক্ত কত নম্বর প্ল্যাটফর্মে বা স্টেশনের কোন জায়গায় রয়েছে। তার ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে অপরাধীকে ধরতে পারবেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশনে  উন্নত প্রযুক্তির এই ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। দুটি স্টেশনে একশোর উপর ক্যামেরা বসানোর কথা। চলতি বছরেই রাজ্যের সমস্ত বড়ো স্টেশনে এই ক্যামেরা বসে যাবে বলে আশা করছে রেল পুলিশ।

সম্পর্কিত সংবাদ