নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাক গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) প্রত্যক্ষ ইন্ধনে প্রতিবেশী বাংলাদেশে এখন ভারত বিরোধিতা চরম আকার নিয়েছে। মৌলবাদী এবং বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের প্ররোচনায় বিরোধিতা এমন আকার নিয়েছে, যেখানে ভারতীয় দূতাবাস সহ দিল্লি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আক্রমণ হচ্ছে। এমনকী ঢাকা সহ সে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত ভারতীয় আধিকারিক এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের উপর হামলার ছক কষা হচ্ছে বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। ভারত বিরোধিতার এই পর্বে নতুন করে ইস্যু করা হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে যাওয়ার বিষয়টিকেও। সবমিলিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সাধারণ নির্বাচনের আগে কে কতটা ভারত বিরোধী, তার প্রতিযোগিতায় নেমেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলি। এরকম একটা আবর্তে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা এড়াতে দূতাবাস, উপ দূতাবাস এবং ভিসা কেন্দ্রগুলিতে কর্মরত ভারতীয় আধিকারিকদের জন্য ‘নন ফ্যামিলি পোস্টিং’ ঘোষণা করল দিল্লি।
গত ২০ জানুয়ারি জারি করা নির্দেশিকায় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে ভারতীয় আধিকারিকদের স্ত্রী, পুত্র, কন্যা সহ অন্য আত্মীয়দের অবিলম্বে দেশে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। এমনকী কারা কখন কোন বিমানে দেশে ফিরবে, সে সূচিও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত দু’দিন ধরে বাংলাদেশ ছাড়ছেন আধিকারিকদের পরিবারের সদস্যরা। এরই পাশাপাশি ঢাকার দূতাবাস এবং খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটের চারটি উপ দূতাবাসের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিরাপত্তাও। প্রসঙ্গত, ইরাক, আফগানিস্তান এমনকী পাকিস্তানের ক্ষেত্রে আধিকারিকদের জন্য ‘নন ফ্যামিলি পোস্টিং’ চালু থাকলেও, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রথমবারের জন্য লাগু করা হল।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪’এর ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত বিরোধিতার জিগির তুলে আসরে নেমেছিল পাক গুপ্তচর সংস্থার আড়কাঠিরা। সেই সময় দূতাবাস, উপদূতাবাস এবং ভিসা কেন্দ্রগুলি থেকে একপ্রস্ত ‘নন এসেনসিয়াল স্টাফ’ ফিরিয়ে নিয়েছিল ভারত। তারপর থেকে দু’দেশের সম্পর্কের মধ্যে ‘চাপান-উতোর’ চলতে থাকলেও, নন ফ্যামিলি পোস্টিং নিয়ম চালু করার মতো পরিস্থিতি ছিল না। তবে চলতি জানুয়ারি মাসে আইএসআই এবং বাংলাদেশের কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের ‘পরিকল্পনা’ জেনে যাওয়ার পর আর ঝুঁকি নিতে চায়নি নয়াদিল্লি। তড়িঘড়ি নির্দেশিকা জারি করে আধিকারিকদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। গোয়েন্দাদের ওই সূত্রটি বলছে, ঢাকার গুলশানের মূল দূতাবাস এবং আরও চারটি উপদূতাবাস ছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন অংশে ১৬টি ‘ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার’ রয়েছে। রয়েছে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার বড়সড় পরিকাঠামো। এসব জায়গায় কর্মরত ভারতীয় আধিকারিক ঢাকা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। সিংহভাগ ক্ষেত্রেই আধিকারিকরা স্ত্রী-সন্তান এমনকী বাবা-মাকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে বা ফ্ল্যাটে থাকেন। অনেকের সন্তান স্থানীয় স্কুল-কলেজে পড়াশোনাও করে। উগ্র ভারত বিরোধীদের কাছে এরাই ‘টার্গেট’, এমন তথ্যও মিলেছে। তাই এহেন সিদ্ধান্ত নিল বিদেশ মন্ত্রক।