নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: পুলিসের পর এবার শিলিগুড়ি শহরের ‘ডার্ক স্পট’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের। টানা তিন বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক শুভম রায় এ ব্যাপারে গবেষণা চালিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন। তাঁর গবেষণাপত্র থেকে জানা গিয়েছে, শহরের ৪৭টি ওয়ার্ডে ডার্ক স্পটের সংখ্যা অসংখ্য। তাতে চুরি ও সিঁধেল চুরি ঘটনা ক্রমবর্ধমান। একইসঙ্গে শহরের আলোকিত এলাকাগুলিতেও চুরির মতো অপরাধমূলক কার্যকলাপ অব্যাহত। এনিয়ে শহরে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
উত্তরবঙ্গ তো বটেই রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির মধ্যে শিলিগুড়ি অন্যতম। এই ‘বাণিজ্য নগরী’ উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার। এই শহরের পাশেই প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল এবং প্রতিবেশী রাজ্য বিহার ও সিকিম রয়েছে। এখানে জনসংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। এমন প্রেক্ষাপটে শহরের রাতের আলো ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের গবেষক শুভম। এই শহরেই তাঁর বাড়ি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডাঃ ইন্দ্রজিৎ রায় চৌধুরীর তত্বাবধানে ওই গবেষণা করেছেন। ইতিমধ্যে তাঁর ২১ পাতার গবেষণাপত্র একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
শুভম বলেন, ২০২১ সালে গবেষণা শুরু করি। তা চলে ২০২৩ সাল পর্যন্ত। গবেষণায় নাসার নাইল লাইট ডেটা ব্যবহার করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে শহরের ‘ডার্ক স্পট’ বা অন্ধকার আচ্ছন্না জায়গাগুলিতে চুরি ও সিঁধেল চুরির ঘটনা ঘটছে। সেগুলি মূলত শহরের প্রান্তিক এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। যেমন চম্পাসারি, সমরনগর, শালুগাড়া, ইস্টার্ন বাইপাস, পতিরামজোত প্রভৃতি। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলি ৪২, ৪৬, ৪৭, ৩১, ৪০, ৪১ প্রভৃতি ওয়ার্ডের অধীনে। কিংবা ওয়ার্ডগুলির সংলগ্ন শহরতলি বা গ্রামীণ এলাকা।
শুভম এ ব্যাপারে দু’টি ম্যাপ প্রস্তুত করেছেন। একটি চুরি এবং আরএকটি বাগলারি বা সিঁধেল চুরির। তিনি ম্যাপে ডার্ক স্পটগুলিতে প্রায় ৩২৮টি চুরি এবং প্রায় ২৮৭টি সিঁধেল চুরির ঘটনা উল্লেখ করেছেন। তিনি পুলিসের কাছ থেকেও ওই তথ্যগুলি যাচাই করেছেন। এ ধরনের অপরাধ রোখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে রাতে আলোর মাত্রা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, রাতে এলাকাগুলিতে এক ইউনিট করে আলোর তীব্রতা বাড়লে এলাকাগুলিতে ১৪.৮ শতাংশ চুরি এবং ২৪.৩ শতাংশ সিঁধেল চুরির ঘটনা হ্রাস পেতে পারে।
শুধু ডার্ক স্পট নয়, শুভম রিপোর্টে শহরের আলোকিত এলাকাতেও চুরির মতো অপরাধের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, শহরের বিধান মার্কেট ও এনজেপি স্টেশন জনবহুল। রাতে যথেষ্ট আলো থাকছে। তা হলেও ওই এলাকাগুলিতে চুরির মতো অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে। ভীড়ে মিশে যাওয়া এবং পালানোর পথ থাকায় ওই এলাকাগুলিতে দুষ্কৃতীরা অপরাধ সংগঠিত করছে বলেই মনে হচ্ছে। এজন্য এলাকাগুলিতে পুলিসি নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, বছরখানেক আগে অপরাধ দমনে শহরে সমীক্ষা চালিয়ে ডার্ক স্পটের তালিকা প্রস্তুত করে শিলিগুড়ি পুলিস কমিশনারেট। তাদের তালিকায় এমন স্পটের সংখ্যা ছিল ৫০টিরও বেশি। শিলিগুড়ি পুরসভার বিদ্যুৎ বিভাগের মেয়র পরিষদ সদস্য কমল আগরওয়াল বলেন, শহরে ইস্টার্ন বাইপাস সহ পুলিসের দেওয়া অধিকাংশ ডার্ক স্পটে আলোর ব্যস্থা করা হয়েছে। এখন বর্ধমান রোড, নৌকাঘাট প্রভৃতি এলাকায় বাতিস্তম্ভ বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।