নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে জনসংখ্যা। সেইসঙ্গে সিউড়ি পুরসভা এলাকাও বহরে অনেকটাই বেড়েছে। বছর তিনেক আগেও পুরসভার অধীনে নতুন করে তিনটি ওয়ার্ড সংযুক্ত হয়েছে। যদিও ডেঙ্গু মোকাবিলায় পুরসভার জন্য বরাদ্দ এখনও বাড়েনি। ফলে ডেঙ্গু মোকাবিলায় নতুন করে সাফাই কর্মী নিয়োগ করতে অক্ষম পুরসভা কর্তৃপক্ষ। তার জেরে বছরভর ডেঙ্গু মোকাবিলায় কাজ করতে গিয়ে পুরসভা কর্তৃপক্ষকে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। প্রতিকূলতা কাটিয়ে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে একাধিক সময় সুডাকে(স্টেট আর্বান ডেভেলপমেন্ট অথরিটি) চিঠি পাঠিয়েছেন পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত কোনও সদুত্তর মেলেনি। ফলে সীমিত লোকবল নিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে।
চেয়ারম্যান বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলার জন্য পুরসভা এলাকায় দ্রুত আরও কর্মী নিয়োগ করার প্রয়োজন রয়েছে। এনিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিক সময় চিঠি পাঠিয়েছি। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি। ফলে ডেঙ্গু মোকাবিলায় নতুন করে কর্মী নিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই সাফাইয়ের কাজ করতে গিয়ে নানা সময় যথেষ্টই সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তবে সীমিত লোকবল নিয়েই ডেঙ্গু মোকাবিলায় নিয়মিত কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
একসময় সিউড়ি পুরসভার অধীনে ১৯টি ওয়ার্ড ছিল। ডেঙ্গু মোকাবিলায় ওই ওয়ার্ডগুলির জন্য পুরসভার তরফে ১১৬জন চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল বহু আগেই। যদিও সেই সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। এরই মাঝে প্রায় ৩ বছর আগে পুরসভার এলাকা বাড়ানো হয়। নতুন করে দু’টি ওয়ার্ড সংযুক্ত হয় পুরসভার অধীনে। বর্তমানে মোট ২১টি ওয়ার্ড রয়েছে পুরসভার অধীনে। স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি দু’টি ওয়ার্ডের জন্য ডেঙ্গু মোকাবিলায় নতুন করে কর্মী নিয়োগ করা প্রয়োজন। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উজ্জ্বলবাবু সেবিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিভিন্ন সময় চিঠিও লিখেছেন। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত কোনও সদুত্তর মেলেনি। নতুন ওয়ার্ডের জন্য বরাদ্দ না বাড়ায় এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গু মোকাবিলায় বাড়তি কর্মী নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি।
প্রথমদিকে ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিটা ওয়ার্ডে কমবেশি ৬জন করে কর্মী কাজ করতেন। পুর এলাকার অধীনে নতুন ওয়ার্ড সংযুক্ত হওয়ায় ওয়ার্ড ভিত্তিক কর্মী সংখ্যা কমে গিয়েছে। বর্তমানে ওয়ার্ড পিছু কমবেশি পাঁচজন করে কর্মী রয়েছেন। জনসংখ্যার নিরিখে এই সংখ্যা খুবই কম। ফলে আশাকর্মীদের সার্ভের রিপোর্টের ভিত্তিতে ডেঙ্গু মোকাবিলায় কাজে নামতে গিয়ে কর্মীদেরও যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সুডাকে পাঠানো চিঠির সদুত্তরের আশায় প্রহর গুনছে পুরসভা কর্তৃপক্ষ।