সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: গরম পড়েছে। পড়ুয়াদের মাথার উপর ফ্যান নেই অথচ টিচার্স কমনরুমে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। যা নিয়ে বিতর্ক দান বেঁধেছে। শিক্ষক, শিক্ষকাদের গতিবিধিতে নজরদারির জন্যই কি শুধু টিচার্স কমনরুমে ক্যামেরা, এমন প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার কমনরুমে না বসে বারান্দায় বসেন তাঁরা। ঘটনাটি ময়নাগুড়ির মাধবডাঙার ভুস্কাডাঙা শ্রী শ্রী নিগমানন্দ আদর্শ বিদ্যানিকেতন হাইস্কুলে।
এদিন টিআইসি’র বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে সরব হন ১৬ জন সহকারী শিক্ষক, শিক্ষিকারা। তাঁদের অভিযোগ,টিআইসি নিজের মর্জিতে স্কুল চালাচ্ছেন। যদিও টিআইসি দেবাশিস রায় সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর মন্তব্য, আমি চক্রান্তের শিকার।
শিক্ষক, শিক্ষিকারা জানান, ক্যামেরা লাগানোর ব্যাপারে তাঁদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করেননি টিআইসি। হঠাৎই টিচার্স কমনরুমে ক্যামেরা লাগিয়েছেন। শিক্ষকদের দাবি, টিআইসি ক্রীড়া শিক্ষক। কিন্তু তিনি ঠিকমতো খেলাধুলোর ক্লাস করান না। বুধবার স্কুলে আসেননি। অথচ কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যাননি। যা ইচ্ছে করছেন। ক্লাসরুমে ফ্যান নেই, বাথরুমে যাওয়া যায় না। পড়ুয়াদের শৌচালয়ও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে আছে। সেদিকে নজর নেই, অথচ শিক্ষক, শিক্ষিকাদের গতিবিধির উপর নজর রাখতেই টিচার্স কমনরুমে ক্যামেরা বসিয়েছেন।
স্কুলের করণিক সুমিত রায় বলেন, টিআইসি সকলের সঙ্গেই দুর্ব্যবহার করেন। একবার আমার মোবাইলও কেড়ে নিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তায় প্রশ্নপত্র ছাপিয়েছেন। এসবের প্রতিবাদ জানাই। শিক্ষক জয়দীপ মৈত্র বলেন, টিআইসির এমন কর্মকাণ্ড বলতে আমাদের লজ্জা হয়।
যদিও টিআইসি বলেন, আমাকে অপদস্থ করার জন্য চক্রান্ত চলছে। হঠাৎ করে আমি একদিন দেখি আমার রুমের আলমারির উপর মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তার মধ্যে প্রশ্নপত্র ছাপা। আমার কোনও অনুমতি এতে ছিল না। এ থেকেই পরিষ্কার, চক্রান্ত চলছে। আমার পাল্টা প্রশ্ন সিসি ক্যামেরা লাগানো কি অপরাধ? ক্যামেরায় কারও ছবি আমি দেখি না। সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে।
ময়নাগুড়ির বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডু বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিচ্ছি। ওয়েস্টবেঙ্গল তৃণমূল প্রাইমারি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের ময়নাগুড়ির সদস্য মনোজ দেবনাথ বলেন, এমন ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাম্য নয়।