সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: বৈদ্যুতিক আলো পছন্দ নয় মায়ের। তাই প্রদীপের আলোতেই হয় পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর মহকুমার আদ্রার ঝনকাই সেনীর মিত্রবাড়ির কালীপুজো। এ পুজোর বয়স আনুমানিক দেড়শো বছর। এক সময়কার পারিবারিক পুজো অবশ্য এখন সর্বজনীন।
সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: বৈদ্যুতিক আলো পছন্দ নয় মায়ের। তাই প্রদীপের আলোতেই হয় পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর মহকুমার আদ্রার ঝনকাই সেনীর মিত্রবাড়ির কালীপুজো। এ পুজোর বয়স আনুমানিক দেড়শো বছর। এক সময়কার পারিবারিক পুজো অবশ্য এখন সর্বজনীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৫০ বছর আগে রঘুনাথপুরের বাসিন্দা রজনীকান্ত মিত্র স্বপ্নাদেশ পেয়ে মা কালীর পুজো শুরু করেছিলেন। তিনি ছিলেন তন্ত্র সাধক। স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর আদ্রা থেকে রঘুনাথপুরগামী রাস্তার উপর ঝনকাই সেনীর সামনে কালীপুজো শুরু করেন। পঞ্চমুন্ডির আসন তৈরি করে মায়ের আরাধনায় নিমগ্ন হন। সেই সময় থেকে আজও সারা বছর ধরে এখানে মায়ের মৃন্ময়ী রূপই পুজো হয়ে আসছে। বর্তমানে মায়ের একটি স্থায়ী মন্দির গড়ে উঠেছে, এখন যার পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার চলছে।
এই মন্দিরের সবচেয়ে আশ্চর্য বৈশিষ্ট্য হল, মায়ের গর্ভগৃহে কখনও বৈদ্যুতিক আলো জ্বালানো যায় না। বহুবার চেষ্টা করেও মিত্র পরিবারের সদস্যরা সফল হননি। দেখা গিয়েছে বিদ্যুতের আলো জ্বালালেই কোনও না কোনভাবে তা নিভে যায় অথবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শত চেষ্টা করেও বিদ্যুতের আলো জ্বালানো সম্ভব হয়নি। তাই শেষে মিত্র পরিবার এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, মা বিদ্যুতের আলো পছন্দ করেন না। প্রদীপের মৃদু আলো ভালোবাসেন। তাই আজও মায়ের পুজো হয় কেবল প্রদীপের আলোতেই।
মন্দিরের সেবাইত সাধন মিত্র বলেন, দাদু স্বপ্নাদেশ পেয়ে মায়ের পুজো শুরু করেছিলেন। এই পুজো শুরু করার সময়ে মন্দিরের মাটি খুঁড়তে গিয়ে একটি গৌরীপট উদ্ধার হয়েছিল। গবেষকদের মতে, সেটি ষোড়শ শতকের প্রাচীন নিদর্শন। সেই থেকে প্রমাণিত হয়, এখানে আগে শিব অথবা মা কালীর মন্দির ছিল। বর্তমানে দেবী মায়ের সঙ্গে নিয়মিতভাবে সেই গৌরীপটেরও পুজো হয়। এখানে প্রতিহিংসা ছাড়া মানুষ মানত করলে মা খালি হাতে ফেরান না। মায়ের মহিমা অপার।
ঝনকাই সেনীর কালীপুজো রঘুনাথপুর এলাকার মানুষের কাছে শুধু একটি পুজো নয়, বরং এক অলৌকিক আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা।