Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডাক্তার নেই, মহাত্মা, ইন্দিরা গান্ধীর স্মৃতি বিজড়িত হাসপাতাল আজ বন্ধ

শান্তিনিকেতনে দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ মেমোরিয়াল হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ১৯৪৫ সালে পাঁচ লক্ষ টাকা দান করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী।

ডাক্তার নেই, মহাত্মা, ইন্দিরা গান্ধীর স্মৃতি বিজড়িত হাসপাতাল আজ বন্ধ
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: শান্তিনিকেতনে দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ মেমোরিয়াল হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ১৯৪৫ সালে পাঁচ লক্ষ টাকা দান করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। ‌ছাত্রী অবস্থায় ইন্দিরা গান্ধীও চিকিৎসা করিয়েছিলেন ওই হাসপাতালে। দ্বিতীয়বার ঘটা করে উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। এত জমকালো যার ইতিহাস, সেই হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে তালা বন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কারণ, চিকিৎসক নেই। ‌এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসীরা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয়দের দাবি, আগের মতোই স্বাভাবিক হোক হাসপাতালটি। বিষয়টিতে নজর দিক বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় কবে হাসপাতালের দিকে সুনজর দেয় সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

Advertisement

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে মহাত্মা গান্ধীর সুসম্পর্কের কথা কারও অজানা নয়। তিনি একাধিকবার শান্তিনিকেতনে এসেছিলেন। এই দুই মহান ব্যক্তিত্বের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও মত বিনিময় হয়েছে। অন্যদিকে, শান্তিনিকেতনে চার্লস ফ্রিয়ার অ্যান্ড্রুজের সঙ্গেও গান্ধীজির সু সম্পর্ক ছিল। অ্যান্ড্রুজ ইংরেজ মিশনারি হয়েও রবীন্দ্রনাথ ও গান্ধীজির আদর্শে অনুপ্রাণিত হন। তিনি দরিদ্র এবং নিপীড়িতদের সেবার জন্য বিখ্যাত ছিলেন‌। তাই তাঁকে দীনবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয়। অ্যান্ড্রুজের স্মৃতিতে হাসপাতাল গড়ার জন্য গান্ধীজি বিশ্বভারতীর হাতে ৫ লক্ষ টাকা তুলে দিয়েছিলেন। খোদ রবীন্দ্রনাথের চিকিৎসক শচীন্দ্রচন্দ্র মুখোপাধ্যায় আমৃত্যু এই হাসপাতালে চিকিৎসা করেছিলেন। তাঁর আমলে এই হাসপাতালের স্বর্ণযুগ ছিল। শান্তিনিকেতনের আদিবাসী অধ্যুষিত বালিপাড়া, কালীগঞ্জ, পিয়ার্সনপল্লি সহ শ্রীনিকেতন ও শান্তিনিকেতনের বিস্তীর্ণ এলাকার প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মানুষ প্রতিদিন এখানে চিকিৎসা করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর ডাক্তারের অভাবে ক্রমেই হাসপাতালটি ধুঁকতে থাকে। এরপর শচীন্দ্রবাবুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট ও বিশ্বভারতী পুনরায় হাসপাতালটি চালু করে। কিন্তু একই কারণে ফের বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রাক্তন উপাচার্য সুশান্ত দত্তগুপ্তের আমলে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের উপস্থিতিতে ফের এই হাসপাতালে হোমিওপ্যাথি ও অ্যালোপ্যাথি দুই চিকিৎসা ব্যবস্থাই শুরু হয়। বিশ্বভারতীর প্রাক্তন অধ্যাপক শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সদস্য সবুজকলি সেন বলেন, আমি তখন শ্রীনিকেতনের ডিরেক্টর হিসেবে শিক্ষা ও গ্রাম উন্নয়ন বিষয়ে কাজ করছিলাম। সেই সময় এই হাসপাতালকে পুনর্জীবিত করা হয়। কিন্তু করোনা পরবর্তীকালে হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে যায়। যদিও শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের আর এক সদস্য কালিকাপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় বলেন, হাসপাতালে অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা বন্ধ হলেও এখনও সপ্তাহে দু’দিন হোমিওপ্যাথি ডাক্তার বসেন। হাসপাতালের পিছনেই রয়েছে বিনয় ভবন। তাঁরাও সেখানে যোগ বিভাগ খোলার প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা বর্তমান কর্তৃপক্ষকে আগের মতোই চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করার অনুরোধ জানাব। এ প্রসঙ্গে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, হাসপাতালটিকে পুনর্জীবিত করতে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। আগামী বৈঠকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিষয়টি তোলা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ