Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

পেনশন বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনাই হল না ইপিএফের অছি পরিষদে

ভোটের যুক্তি। এবারও ইপিএফের ন্যূনতম পেনশন নিয়ে সিদ্ধান্ত এড়িয়েই গেল কেন্দ্র। ফলে ১১ বছর পরে কর্মী পিএফের পেনশন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হলেও আপাতত তা হচ্ছে না।

পেনশন বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনাই হল না ইপিএফের অছি পরিষদে
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ১৬:১০

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভোটের যুক্তি। এবারও ইপিএফের ন্যূনতম পেনশন নিয়ে সিদ্ধান্ত এড়িয়েই গেল কেন্দ্র। ফলে ১১ বছর পরে কর্মী পিএফের পেনশন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হলেও আপাতত তা হচ্ছে না। নয়া সিদ্ধান্ত গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত মাসে ন্যূনতম মাত্র এক হাজার টাকা পেনশনই পাবেন ইপিএফ গ্রাহকরা। সোমবার দিল্লিতে ইপিএফও অছি পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ছিল। জানা যাচ্ছে, সেই বৈঠকের এজেন্ডায় ইপিএফের ন্যূনতম মাস পেনশনও ছিল। কিন্তু বৈঠকে তা নিয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি। যুক্তি হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিহারের বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি জারিও হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা করা হলে তার প্রভাব বিহারেও পড়বে। ফলে তা নির্বাচনী বিধিভঙ্গের শামিল হবে। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন নিয়ে এই ব্যাপারে ঘোষণা করতে হলে অযথা জটিলতার সৃষ্টি হবে। সেই কারণে বিহার ভোটের পরেই এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

Advertisement

তবে পেনশন নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি ঠিকই। কিন্তু ইপিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এদিন করেছেন কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য। সোমবার সিদ্ধান্ত হয়েছে, কন্ট্রিবিউশন খাতে জমা পড়া অর্থের ২৫ শতাংশ (এমপ্লয়ার্স এবং এমপ্লয়িজ কন্ট্রিবিউশন মিলিয়ে) ন্যূনতম ব্যালান্স হিসেবে ইপিএফ অ্যাকাউন্টে রাখতেই হবে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে। বাকি টাকার পুরোটাই প্রয়োজনভিত্তিতে তুলে নিতে পারবেন গ্রাহক। তিনটি ক্যাটিগরিতে তা তোলা যাবে। ‘এসেনশিয়াল নিডস’। এর মধ্যে থাকছে অসুস্থতা, শিক্ষা এবং বিয়ে। বাকি দু’টি ক্যাটিগরি হল ‘হাউসিং নিডস’ এবং ‘স্পেশাল সারকামস্টানসেস’। আগে এই ‘স্পেশাল সারকামস্টানসেসে’র উপর ভিত্তি করে ইপিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে নির্দিষ্ট কারণ দর্শাতেই হতো গ্রাহককে। এখন থেকে কোনও কারণ ব্যাখ্যার প্রয়োজন হবে না। আংশিক টাকা তোলার ক্ষেত্রেও ইপিএফ গ্রাহকদের কর্মজীবনের মেয়াদ সংক্রান্ত শর্ত পরিবর্তিত হয়েছে। উল্লেখ্য, অবসর গ্রহণের পর একজন ইপিএফ গ্রাহকের পুরো টাকাই অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নেওয়ার অধিকার থাকে। শর্তসাপেক্ষে একই অধিকার দেওয়া হয় চাকরি হারানো ইপিএফ গ্রাহককেও। কর্মচ্যূত হওয়ার পর এক মাস বেকার থাকলে অ্যাকাউন্টের ৭৫ শতাংশ এবং দু’মাসেও কাজ না মিললে বাকি ২৫ শতাংশ টাকা তুলতে পারেন ওই গ্রাহক। নয়া সিদ্ধান্তের পর এখন শর্তসাপেক্ষে প্রত্যেক গ্রাহকই নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা ইপিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নিতে পারবেন। এদিনের বৈঠকে ইপিএফের এটিএম কার্ড এবং ইউপিআই পরিষেবা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি কেন্দ্র।

সম্পর্কিত সংবাদ