নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শোভাপুরের বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে একটি রাস্তা মিলিত হচ্ছে দুর্গাপুরের ফুলঝোড় মোড়ের কাছে গভর্নমেন্ট কলেজ সংলগ্ন এলাকায় মিলিত হয়েছে। চার কিলোমিটার এই রাস্তার নাম রাখা হয় মোহনবাগান সরণি। জোরকদমে রাস্তা সংস্কার চলছে। রোগী বা চিকিৎসক, নার্স, ডাক্তারি পড়ুয়ারা এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। এমন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় সিসি ক্যামেরা বসানোর প্রয়োজন মনে করেনি পুলিশ। এই রাস্তার পাশে জঙ্গলেই ডাক্তারি পড়ুয়া ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। শহরবাসীর দাবি, এই রাস্তায় সিসি ক্যামেরা থাকলে পুলিশের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ আরও সহজ হতো। এছাড়া সিসি ক্যামেরা থাকলে দুষ্কৃতীরা সংযত থাকে।
শুধু এই রাস্তাই নয়, দুর্গাপুর টাউনশিপ থেকে অন্য যে রাস্তাটি ওই মেডিকেল কলেজ হয়ে মলানদিঘি অভিমুখে যাচ্ছে সেখানেও প্রশাসন সিসি ক্যামেরা বসায়নি। এমন গুরুত্বপূর্ণ জায়গাকে কেন পুলিশ-প্রশাসন নজরদারির বাইরে রেখেছিল তা নিয়ে নাগরিক সমাজে প্রশ্ন উঠেছে। জেমুয়া ভাদুবালা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক জইনুল হক বলেন, শুধু সিটি সেন্টার কেন্দ্রীক এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসানোর ঝোঁক বেশি পুলিসের। এই জায়গাগুলির নিরাপত্তা, নজরদারিও প্রয়োজন। দুর্গাপুরের সমাজকর্মী রণজিৎ গুহ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায় নজরদারিতে গুরুত্ব দেওয়া দরকার ছিল। দুর্গাপুরে যেভাবে অপসংস্কৃতি বাড়ছে তাতে পুলিস-প্রশাসনের এনিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।
তবে শুধু সিসি ক্যামেরা নয়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আলোর ঘাটতিও একটি বড় সমস্যা। এই মোহনবাগান সরণির উপর রহস্যজনকভাবে পথবাতিগুলি হামেশাই খারাপ হয়ে যেত। ধর্ষণ ও ছিনতাই কাণ্ডে যে ছ’জন ধরা পড়েছে তাদের মধ্যে নাসিরুদ্দিন ওরফে সম্রাট এই পথবতি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করত। তাহলে কী দুষ্কৃতীরা নিজেদের মুক্তাঞ্চল অটুট রাখার জন্যই পরিকল্পনা করে পথবাতিগুলি খারাপ করে রাখত, সেই প্রশ্নও উঠছে। দুর্গাপুরের বাসিন্দাদের দাবি, নিরাপত্তা ও নজরদারির কড়াকড়ি থাকলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ‘বৃন্দাবন’ গজিয়ে উঠত না। যেখানে সহজেই পড়ুয়া যুগলরা ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ পায়। সেই সুযোগে ব্ল্যাকমেল করে টাকা তোলার রাস্তা খুলে যাচ্ছে দুষ্কৃতীদের কাছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুরু শোভাপুরের মেডিকেল কলেজই নয়, এনআইটি সংলগ্ন এলাকা, বিধাননগরের একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চত্বর লাগোয়া এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। না হলে ফের এই ধরনের ঘটনা সংস্কৃতির শহর দুর্গাপুরের সম্মানকে ধুলোয় মিশিয়ে দেবে।
জানা গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে দুর্গাপুর পুরসভা। তারা চাইছে শহরের সবকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তার অডিট করতে। পুরসভা, এডিডিএ, পুলিস ও জেলা প্রশাসনকে নিয়েই তারা এই বৈঠক করার তোড়জোড় শুরু করেছে। যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির কর্তৃপক্ষকেও ডাকা হবে। পড়ুয়াদের জন্য নির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরির পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা, আলো সহ যা যা পরিকাঠামোর উন্নয়ন দরকার তাও খতিয়ে দেখতে চাইছে পুরসভা। পুরসভা সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারম্যান অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় জেলাশাসক পোন্নমবলম এসের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা সেরে নিয়েছেন।