নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: মাধ্যমিকে পুরুলিয়া জেলার সামগ্রিক ফলাফল হতাশ করেছিল শিক্ষামহলকে। আশা ছিল, উচ্চমাধ্যমিকে অন্তত মেধা তালিকা জায়গা করে নেবে পুরুলিয়ার কেউ না কেউ। কিন্তু হতাশা রয়েই গেল! উচ্চমাধ্যমিকেও মেধা তালিকায় নেই পুরুলিয়ার কেউ। জেলার সামগ্রিক ফলাফলে মুষড়ে পড়েছে শিক্ষামহল। জেলার শিক্ষার মান কি তাহলে তলানিতে? প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এবছর পুরুলিয়া জেলায় মোট উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৯ হাজার ৪০৯। ছাত্রের সংখ্যা ন’ হাজার ৬০০ এবং ছাত্রীর সংখ্যা ন’ হাজার ৮০৯। পাশের হার ৮৯.৩২ শতাংশ। মেয়েদের পাশের হার ৮৫.৩৪ শতাংশ। ছেলেদের পাশের হার ৯৩.১২ শতাংশ। জেলা থেকে মেধা তালিকায় ঠাঁই হয়নি কারও। এনিয়ে জেলার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার কনভেনর সত্যকিঙ্কর মাহাত বলেন, পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলগুলিতে শিক্ষকের যেমন অভাব রয়েছে, তেমনই ভালো টিউটরেরও ঘাটতি রয়েছে। তারই প্রভাব পড়ছে মেধা তালিকায়।
তবে, গত বছরেও মেধা তালিকায় ঠাঁই হয়নি পুরুলিয়ার কারও। তার আগের বছর ২০২৩ সালে অবশ্য মেধা তালিকায় পঞ্চম স্থান পেয়ে জেলার নাম উজ্জ্বল করেছিলেন নাপাড়া হাই স্কুলের পড়ুয়া অঙ্কিতা গড়াই। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শুকদেব মাহাত বলেন, ‘মাধ্যমিকে মেধা তালিকায় একাদশ স্থানে তথা জেলার মধ্যে প্রথম হয়েছিল আমাদের স্কুলেরই ছাত্রী মাম্পি দাস। ভেবেছিলাম উচ্চমাধ্যমিকের মেধা তালিকাতে অন্তত আমাদের স্কুলের নামটি থাকবে। কিন্তু তা হল না। জেলার একজন পড়ুয়ারও নেই মেধা তালিকায়, এটা সত্যিই হতাশার।’ তবে, নপাড়া স্কুলের সামগ্রিক ফলাফল অত্যন্ত সন্তোষজনক। ৪৮৪ পেয়ে স্কুলের মধ্যে প্রথম হয়েছেন নির্মাল্য ভদ্র। তাঁর বাবা নিরুপম ভদ্র ওই স্কুলেরই বাংলার শিক্ষক। অন্যদিকে, জেলার মধ্যে এবছর সম্ভাব্য প্রথম স্থান অধিকার করেছেন শুভদীপ দাস। শুভদীপের প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৬। মানবাজারের দিঘির বাসিন্দা শুভদীপ বামুনডি স্কুলের পড়ুয়া। জেলার মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন দরোডি স্কুলের পড়ুয়া বর্ষা মাহাত। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৫। জেলার মেয়েদের মধ্যে সম্ভবত তিনিই প্রথম।