সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: বিমানবন্দরের আদলে এনজেপি স্টেশনকে বিশ্বমানের করে তোলার কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। আধুনিক রূপে সজ্জিত এই স্টেশনের বাড়তি আকর্ষণ হবে হেরিটেজ টয় ট্রেনের জন্য আলাদা টার্মিনাল। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের (ডিএইচআর) হেরিটেজ স্মারক, দার্জিলিং চা সহ বিভিন্ন সামগ্রীর স্টলও থাকবে।
আধুনিকীকরণের কাজের জন্য যাত্রীদের এখন এনজেপি স্টেশনে যাতায়াতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই এই সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন যাত্রীরা। শুক্রবার এনজেপি স্টেশনে কাজ পরিদর্শনে এসে এ কথা জানান দার্জিলিংয়ের সাংসদ বিজেপির রাজু বিস্তা। এদিন তিনি স্থানীয় রেল আধিকারিকদের সঙ্গে কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন।
এমপি বলেন, দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের জন্য আলাদা প্রবেশ এবং নির্গমন পথ থাকবে। একটা স্বতন্ত্র টার্মিনাল তৈরি হবে। দার্জিলিংয়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বহনকারী চা, কমলালেবু সহ বিভিন্ন জিনিসের স্টল থাকবে সেই টার্মিনালে।
রেল সূত্রেই জানা গিয়েছে, এই স্টেশন সংস্কারের কাজ রেল যখন হাতে নিয়েছিল তখন খরচ ধরা হয়েছে ৩৩৪ কোটি টাকা। পরে আরও কিছু কাজ যুক্ত হওয়ায় মোট খরচ দাঁড়াবে ৫০০ কোটি টাকা। প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীদের স্টেশনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে আধুনিক সুযোগ সুবিধা মিলবে। তারপর প্ল্যাটফর্ম সহ অন্যান্য আধুনিকীকরণের কাজ শেষ হতে আরও এক বছর লাগবে। ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যেই এনজেপি স্টেশনকে সাজিয়ে তোলার কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন বিস্তা।
এনজেপি স্টেশনের গুরুত্ব বরাবরের। কিন্তু যেভাবে এতদিন তা পড়েছিল তাতে যাত্রীদের সমস্যার পাশাপাশি নিরাপত্তা দিকটিও যথেষ্ট চিন্তার ছিল। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের পাশাপাশি স্টেশনের নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনা করে রেলমন্ত্রক এই স্টেশনকে বিশ্বমানের করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এমপি জানান, এই স্টেশনে বর্তমানে দৈনিক ৬০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। আগামী দিনে তা বেড়ে দ্বিগুণ হবে। সেই কথা মাথায় রেখেই এই স্টেশনকে সুন্দর করে পরিকল্পিতভাবে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। আধুনিকরূপে সেজে ওঠা এই স্টেশনে যাত্রীরা অনেকরকম সুযোগ সুবিধা পাবেন। উন্নত পার্কিং, কাফেটেরিয়া থেকে শুরু করে ওষুধের দোকান, শপিং মল সব থাকবে। একছাতার তলায় যাত্রীরা সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পাবেন।
এনজেপি স্টেশন সাজিয়ে তোলার পাশাপাশি সংলগ্ন এলাকার সব বেহাল রাস্তা সংস্কারের দিকটি এদিন রেল আধিকারিকদের নজরে আনেন সাংসদ। তাঁর দাবি, এরপরে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে আমরা আলোচনায় বসব। আরও কী কী উন্নত পরিষেবা যুক্ত করা যায় তা নিয়ে কথা হবে।