Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নতুন জট ‘তথ্য আপলোড’, পদ্ধতি নিয়ে ধন্দে বিএলওরা, এসআইআরের ফর্ম বিলি শেষের পথে

মোট ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫৩৯টি ইনিউমারেশন ফর্ম। তার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি বিলি হয়ে গিয়েছে। ভোটার তালিকার স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনের (এসআইআর) প্রাথমিক পর্বের কাজ রাজ্যজুড়েই শেষ পর্যায়ে।

নতুন জট ‘তথ্য আপলোড’, পদ্ধতি নিয়ে ধন্দে বিএলওরা, এসআইআরের ফর্ম বিলি শেষের পথে
  • ১২ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: মোট ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫৩৯টি ইনিউমারেশন ফর্ম। তার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি বিলি হয়ে গিয়েছে। ভোটার তালিকার স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনের (এসআইআর) প্রাথমিক পর্বের কাজ রাজ্যজুড়েই শেষ পর্যায়ে। আর কিছুদিনের মধ্যেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে পূরণ করা ফর্ম জমা নিতে শুরু করবেন বিএলওরা। তারপর সেই ফর্মের স্ক্যান করা কপি, ভোটারের নাম, ফোন নম্বর, এপিক এবং আধার নম্বর আপলোড করা হবে নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট অ্যাপে। এই তথ্য যাচাই করে নির্ধারিত হবে আপনি আদৌ বৈধ ভোটার কি না! অর্থাৎ, এককথায় ভোটারের ভাগ্য ঝুলছে বিএলওদের হাতেই। অথচ সেকাজ কীভাবে করবেন, সেই পদ্ধতি নিয়ে তাঁদের মধ্যেই ধন্দ বাড়ছে। ফর্ম সংগ্রহের পর তথ্য আপলোডের এই কাজকে কমিশনের ভাষায় বলা হচ্ছে ‘ডিজিটাইজেশন অব ইনিউমারেশন ফর্ম’। অথচ, গুরুত্বপূর্ণ এই ডিজিটাইজেশনের কাজ কীভাবে করতে হবে হাতেকলমে তার কোনও প্রশিক্ষণ দেওয়াই হয়নি বিএলওদের। বিএলও অ্যাপে ইতিমধ্যে ‘ফিল ইনিউমারেশন ফর্ম’ অপশনটি সক্রিয় হয়ে গিয়েছে।   ডিজিটাইজেশন সংক্রান্ত একটি ভিডিয়ো মঙ্গলবার রাতে পাঠানো হলেও ধন্দ কাটেনি বিএলওদের। স্বাভাবিক ভাবেই এই নতুন সমস্যা নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে জনমানসে।

Advertisement

রাজ্য মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের (সিইও) অফিসও ১১ নভেম্বরের মধ্যে যাবতীয় ফর্ম বিতরণের টার্গেট ধার্য করেছিল। ফলে আগামী দু’-তিনের মধ্যে পুরোমাত্রায় ফর্ম সংগ্রহের কাজ শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। ডিজিটাইজেশন আর মাত্র সময়ের অপেক্ষা। তাহলে কি প্রশিক্ষণ ছাড়াই হবে সেই কাজ? সেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী শশী পাঁজার বক্তব্য, ‘এটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যাঁদের হাতে বাংলার কোটি কোটি মানুষের ভোটাধিকারের ভাগ্য, তাঁদেরই যদি ভালো করে প্রশিক্ষণ না দেওয়া হয়, তাহলে যাচাই প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।’ 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএলও বলেন, ‘আমরা যতদূর জেনেছি জমা পড়া ফর্মটিতে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে ভোটারের জন্ম তারিখ, আধার নম্বর, বাবার-মায়ের নাম, তাঁদের এপিক নম্বর, আত্মীয়ের নাম সহ ৭-৯টি বক্স পূরণ করতে হবে অ্যাপে। আবার ২০০২ এসআইআর তালিকায় নাম না থাকলে আত্মীয়ের নাম সহ অতিরিক্ত তথ্য আপলোড করতে হবে। সেই ক্ষেত্রে সামান্য ভুলত্রুটি হলেই সমস্যা হতে পারে। ফলে প্রশিক্ষণ খুবই জরুরি।’ ভোটকর্মী এবং বিএলও ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলও জানিয়েছেন, ডিজিটাইজেশন নিয়ে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ এখনও হয়নি।
রাজ্য সিইও অফিসের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আগেই বিএলওদের অবগত করা হয়েছিল। তারপরেও যদি ডিজিটাইজেশন নিয়ে কারও সমস্যা থাকে, তাহলে ইআরওদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তবে একাংশের দাবি, এই ক্ষেত্রেও সিইও দপ্তরের তরফে পাঠানো নির্দেশিকা মেনেই জেলায় জেলায় বিএলওদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। কিন্তু, সেই সংক্রান্ত কাগজপত্র এখনও পাঠানো সম্ভব হয়নি। ফলে লাল ফিতের ফাঁসে ঝুলে বাংলার ভোটারদের ভাগ্য।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ