নয়াদিল্লি: দু’টি নয়, আগামী ১৫ জুন এক শিফ্টেই ডাক্তারির স্নাতকোত্তর স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-পিজি হবে। শুক্রবার এমনই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। দু’টি শিফ্টে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টির বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ। শুক্রবার এই মামলায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত ন্যাশনাল বোর্ড অব এগজামিনেশন (এনবিই)-কে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ওই পরীক্ষা একটি শিফ্টেই নিতে হবে। পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থেই এই নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে আদালত।
এদিন পর্যবেক্ষণে বিচারপতি বিক্রম নাথের নেতৃত্বাধীন বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি এন ভি আনজারিয়াকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ জানিয়েছে, দু’টি শিফ্টের প্রশ্নপ্রত্র কখনও একই রকম কঠিন বা সহজ (ডিফিকাল্টি লেভেল) হতে পারে না। উল্লেখ্য, দু’টি শিফ্টে পরীক্ষা নেওয়ার বিরোধিতা করতে গিয়ে মামলাকারীরা জানিয়েছিলেন, গত বছরের নিট-পিজির দ্বিতীয় শিফ্টের প্রশ্নপত্র অস্বাভাবিক কঠিন হয়েছিল। এদিনের শুনানিতে আদালত আরও বলে, বর্তমানে দেশের প্রযুক্তিগত কাঠামো অনেক উন্নত হয়েছে। তাই দেশজুড়ে একটি শিফ্টে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরীক্ষাকেন্দ্র পাওয়া যাচ্ছে না বলে এনবিই যে যুক্তি দিয়েছে, তা মানা যাচ্ছে না। এরপরই বেঞ্চ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেয়, একটি শিফ্টে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বাড়াতে হবে পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা। যদি প্রয়োজন হয়, আদালতের অনুমতি নিয়ে পরীক্ষার দিনক্ষণও পিছিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এবছর দেশজুড়ে নিট-পিজি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২ লক্ষ ৪২ হাজার ৬৭৮ জন। সেই বিষয়টি তুলে ধরে এনবিই’র আইনজীবী আদালতকে জানান, এই বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর জন্য এক লপ্তে পর্যাপ্ত পরীক্ষাকেন্দ্রের ব্যবস্থা করা অসম্ভব। কারণ, এই পরীক্ষা সম্পূর্ণ অনলাইনে হয়। ফলে ১৫ দিনের মধ্যে সেইরকম পরিকাঠামো থাকা পর্যাপ্ত পরীক্ষাকেন্দ্র খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সেটা করতে গেলে গোটা পরীক্ষা সূচিটাই বদলে যেতে পারে। তাতেও অবশ্য চিঁড়ে ভেজেনি। বেঞ্চ কড়া ভাষায় বলে, ‘বছর নষ্ট হবে... এটা হবে-সেটা হবে... এইধরনের হুমকি আদালতকে দেবেন না।’