Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

এসআইআরে বাদ প্রায় ৩ কোটি নাম, ‘ক্ষতি’ সামলাতে হিমশিম বিজেপি

স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) শুরুর আগে বিজেপি নেতারা বারবার দাবি করছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে অন্তত ১ কোটি মানুষের নাম বাদ পড়বে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে অন্য ছবি।

এসআইআরে বাদ প্রায় ৩ কোটি নাম,  ‘ক্ষতি’ সামলাতে হিমশিম বিজেপি
  • ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

লখনউ: স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) শুরুর আগে বিজেপি নেতারা বারবার দাবি করছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে অন্তত ১ কোটি মানুষের নাম বাদ পড়বে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে অন্য ছবি। পশ্চিমবঙ্গে বাদ পড়েছে ৫৮ লক্ষের কিছু বেশি নাম। আর বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে প্রায় তিন কোটি, সঠিকভাবে বললে ২ কোটি ৮৯ লক্ষ। যে ১২টি রাজ্যে এসআইআর চলছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে যোগী-রাজ্যেই। আর তাতেই ঘুম উড়েছে বিজেপির। পরিস্থিতি এমন যে, বেশ কিছু আসনে গত নির্বাচনে গেরুয়া শিবিরের জয়ের ব্যবধানের থেকেও বেশি নাম বাদ পড়ে গিয়েছে। তার জেরে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। ঘন ঘন তাঁরা আলোচনায় বসছেন। ইতিমধ্যেই দলের সাংসদ, বিধায়ক, মন্ত্রী, জেলা সভাপতি ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী। দলের রাজ্য সংগঠনের নেতারাও বৃহস্পতিবার বৈঠক করেন। এত ভোটারের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

Advertisement

এসআইআরের সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে রাজধানী লখনউয়ে। সেখানে ৩০ শতাংশ ভোটারের নামই বাদ চলে গিয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গাজিয়াবাদে ২৮ শতাংশ নামই বাতিল। বলরামপুর, কানপুর, প্রয়াগরাজ, মিরাট, গৌতম বুদ্ধ নগর, হাপুর, সাহারানপুর এবং আগ্রাতেও প্রচুর ভোটারের নাম খসড়া তালিকায় নেই। গত বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখে দেখলে এর জেরে বহু আসনে বিজেপি এক লক্ষের বেশি ভোট হারাতে পারে। সেক্ষেত্রে যে সব আসনে গতবার ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছিল, সেখানে জেতা মুশকিল হতে পারে বলে মনে করছে পদ্মশিবির। এছাড়া দলের তরফে অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, যে আসনে মুসলিম জনসংখ্যা বেশি সেখানেও বিজেপি তাদের নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক হারাতে পারে।
এই ক্ষতি সামলাতে নতুন ভোটারদের টার্গেট করতে চাইছে বিজেপি। তরুণ প্রজন্ম যাতে তালিকায় নাম তুলতে পারে তার জন্য বৈঠকে সাংগঠনিক নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা দায়িত্ব নিয়ে প্রতিটি বিধানসভা এলাকা, মণ্ডল ও ওয়ার্ড স্তরে ফর্ম-৬ বিলি করবেন। জেলা সভাপতি, বিধান পরিষদের সদস্য, বিধায়ক, সাংসদ ও মন্ত্রীদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক জেলা সভাপতি দশটি করে টিম গঠন করবেন। যদি কোনও এলাকায় বিধায়ক না থাকেন, তাহলে সেখানে বিধান পরিষদের সদস্য বা রাজ্যসভার সাংসদ দায়িত্ব নেবেন। বুথস্তরে কাজ কতটা এগিয়েছে, তার রিপোর্ট জমা দিতে হবে প্রতিদিন। বিজেপি সূত্রে খবর, শহুরে ভোটারদের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। সমস্ত পদাধিকারীকে বুথ স্তরে কাজ করতে হবে। দলের ওবিসি মোর্চা সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ কে লক্ষ্মণকে পুরো বিষয়টির উপর নজর রাখার দায়িত্ব দিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ