বেঙ্গালুরু: ‘বিরাট’ আবেগে বাধ সাধল প্রকৃতি। টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া মহাতারকাকে শ্রদ্ধা জানাতে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম শনিবার সেজে উঠেছিল পিঠে নীল রঙে ‘১৮’ লেখা সাদা জার্সিতে। ছিল বিরাটকে নিয়ে অজস্র পোস্টার, কাটআউট, টিফো। জায়ান্ট স্ক্রিনে বার বার ভেসে উঠছিল ‘বিরাট ১৮’ লেখা। কিন্তু প্রকৃতিও যে কোহলির অবসরে চোখের জল ফেলল! দীর্ঘক্ষণ প্রতীক্ষার পরও খেলা শুরু করা গেল না কিছুতেই। কোটিপতি লিগে প্লে-অফের দৌড় থেকে ছিটকে গেল কলকাতা নাইট রাইডার্স। ১৩ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট হল অজিঙ্কা রাহানের দলের। ২৫ মে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচ নাইটদের। তাতে জিতলে ১৪ পয়েন্ট হবে শাহরুখ খানের ফ্র্যাঞ্চাইজির। কিন্তু তাতে প্লে-অফের দরজা খোলার কোনও সম্ভাবনা নেই। অন্যদিকে, ১২ ম্যাচে ১৭ পয়েন্টে পৌঁছল রজত পাতিদারের আরসিবি। তারাই এখন পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে। প্লে-অফের টিকিট কার্যত পাকা।
খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। তার আধঘণ্টা আগে টস। কিন্তু বিকাল থেকে সেই যে বৃষ্টি শুরু হল, তা আর থামল না। এমনিতে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের নিকাশি ব্যবস্থা দুর্দান্ত। ফলে বৃষ্টি থামলে খেলা দ্রুত শুরু করতে সমস্যা হওয়ার কথা ছিল না। পাঁচ ওভারের ম্যাচ শুরু করার কাট-অফ টাইম ছিল রাত ১০.৫৬। ফলে আশা নিয়েও অপেক্ষা করছিলেন বৃষ্টিভেজা ক্রিকেটপ্রেমীরা। কিন্তু রাত ১০.২৪ মিনিটে দু’দলের ক্রিকেটাররা ড্রেসিং-রুমেই হাত মিলিয়ে নেন। তার আগে ছাতা মাথায় আম্পায়ারদের মাঠে যাওয়া দেখেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল ভবিতব্য।
নাইটরা অবশ্য খেলা শুরুর জন্য অধীর প্রতীক্ষায় ছিল। বৃষ্টি চলাকালীন আন্দ্রে রাসেল বলেছিলেন, ‘বৃষ্টি যতই হোক, আমরা নিজেদের সেরাটা মেলে ধরতে প্রস্তুত। এই ম্যাচে দু’পয়েন্ট পাওয়া আমাদের কাছে অত্যন্ত জরুরি। আশা করছি, জিতেই মাঠ ছাড়ব।’ কিন্তু সেই আশা পূর্ণ হল না। টিকে থাকার সুযোগটাই পেলেন না সুনীল নারিন, বরুণ চক্রবর্তীরা। নাইট শিবিরে তাই চোখে পড়ল একের পর এক হতাশ চেহারা। বিরাট কোহলিকেও দেখা গেল শূন্য দৃষ্টিতে মাঠে জমা জলের দিকে তাকিয়ে। তাঁকে ঘিরে উন্মাদনাও যে ভেস্তে গেল তুমুল বর্ষণে।