Bartaman Logo
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

নেপাল ট্র্যাজেডি: এখনও চরম আতঙ্কে ইস্ট বেঙ্গলের প্রাক্তনী

গুরুত্বপূর্ণ মিটিং। সাইলেন্ট মোডে মুঠোফোন। বিশেষ প্রয়োজেন মোবাইল হাতে নিতেই চক্ষু চড়কগাছ। সতর্কবার্তা জানিয়ে এক আত্মীয়ের টেক্সট।

নেপাল ট্র্যাজেডি: এখনও চরম আতঙ্কে ইস্ট বেঙ্গলের প্রাক্তনী
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গুরুত্বপূর্ণ মিটিং। সাইলেন্ট মোডে মুঠোফোন। বিশেষ প্রয়োজেন মোবাইল হাতে নিতেই চক্ষু চড়কগাছ। সতর্কবার্তা জানিয়ে এক আত্মীয়ের টেক্সট। চেয়ার থেকে লাফিয়ে উঠেছিলেন গণেশ থাপা। হড়পা বানের তাণ্ডবে তখন রাসুয়া, ধাডিং, নুয়াকোট তছনছ। আতঙ্কে কাঠমাণ্ডুর রাস্তায় মানুষের ঢল। নেপাল এখনও কাঁপছে, কাঁদছেও। নিখোঁজ বহু। লাশের সারি দেখে রাতে দু’চোখের পাতা এক করতে পারছেন না গণেশ থাপা। নেপাল থেকে মুঠোফোনে কথা বলার সময় কান্নায় বুজে আসে গলা প্রাক্তন ফুটবলারের গলা। গণেশ বললেন, ‘আবার হয়তো নেমে আসতে পারে বিপর্যয়। প্রকৃতির হাতে আমরা সবাই তুচ্ছ।’ সত্যিই গভীর সংকটে নেপাল। জলভাসি এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা চরমে। এখনও সব জায়গায় যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। শুধু তাই নয়, হড়পা বানে প্রবল ক্ষতি অর্থনীতির। টিকিট কেটেও নেপাল থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন পর্যটকরা। গণেশ থাপা বললেন, ‘পরিচিত অনেকেরই আত্মীয়স্বজন নিখোঁজ। অলিতে- গলিতে কান্নার রোল। শান্তির নেপালে এমন দৃশ্য দেখতে হবে ভাবিনি।’

Advertisement

আটের দশকে লাল-হলুদ জার্সি পরে ময়দান দাপিয়েছেন গণেশ থাপা। মনোরঞ্জন, তরুণ , ভাস্করদের ভোলেননি নেপালি স্ট্রাইকার। পরবর্তীতে মহমেডান স্পোর্টিংয়েও খেলেছেন গণেশ থাপা। গড়ের মাঠের স্মৃতি এখনও সতেজ। সেই উন্মাদনা ভোলার নয়। প্রাক্তন ফুটবলার জানতে চাইলেন সতীর্থদের খবর। দেশের জার্সিতে ৪০টি ম্যাচে গণেশ থাপার নামের পাশে ১৪ গোল। অবসরের পর নেপাল ফুটবল সংস্থার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। বললেন, ‘ময়দানকে ভোলা অসম্ভব। কেরিয়ারের অনেক সোনালি মুহূর্তের সাক্ষী কলকাতা। বিপদে পড়লে আবারও না হয় কলকাতা ফিরে যাব। ময়দান আমার পাশে থাকবে তো?’ একসময়ের ডাকাবুকো ফুটবলারের কথায় করুণ আর্তি যেন গোটা নেপালের প্রতিচ্ছবি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ