Bartaman Logo
২৫ আগস্ট, ২০২৬

ভুয়ো এআই ছবি দিয়ে জল সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার! কাঠগড়ায় মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকার, ‘স্মার্ট দুর্নীতি’, তোপ কংগ্রেসের

জল সংরক্ষণ কর্মসূচির নামে ‘পুকুর চুরি’? তাও আবার এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে! ডাবল ইঞ্জিন মধ্যপ্রদেশ থেকে সামনে আসছে এমনই গুরুতর অভিযোগ।

ভুয়ো এআই ছবি দিয়ে জল সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার! কাঠগড়ায় মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকার, ‘স্মার্ট দুর্নীতি’, তোপ কংগ্রেসের
  • ১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ভোপাল: জল সংরক্ষণ কর্মসূচির নামে ‘পুকুর চুরি’? তাও আবার এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে! ডাবল ইঞ্জিন মধ্যপ্রদেশ থেকে সামনে আসছে এমনই গুরুতর অভিযোগ। এবিষয়ে কংগ্রেসের অভিযোগ, ‘স্মার্ট দুর্নীতি’ করেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। যদিও প্রশাসনিক কর্তারা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করছেন।
এবিষয়ে একটি রিপোর্টে দাবি, জল সংরক্ষণে পুকুর, কুয়ো সহ বিভিন্ন জলাধার খনন ও নির্মাণের ছবি সরকারি পোর্টালে পোস্ট করা হয়েছে। যদিও বাস্তবে সেগুলির কোনও অস্তিত্ব নেই। সবটাই করা হয়েছে এআই প্রযুক্তির ব্যবহারে। অর্থাৎ, যেখানে পুকুর খনন করা হয়েছে বলে দাবি, সেখানে বাস্তবে রয়েছে গমের খেত! পুকুরের ছবি এআই-এর কারসাজি। একইভাবে মাত্র দু’ফুট গর্ত খুঁড়ে সেগুলিকে কুয়োর রূপ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, এআই-এর মাধ্যমে তৈরি ভুয়ো ছবি ব্যবহার করে জাতীয় জল সংরক্ষণ পুরস্কার বাগিয়ে নিয়েছে মধ্যপ্রদেশের খান্ডোয়া জেলা প্রশাসন। 

Advertisement


উল্লেখ্য, কেন্দ্রের ‘জল সঞ্চয় জন ভাগিদারি’ কর্মসূচির অন্তর্গত জল সংরক্ষণে জাতীয় স্তরে প্রথম স্থান অধিকার করে খান্ডোয়া জেলা। নভেম্বর মাসে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় জল পুরস্কার অনুষ্ঠানে ২ কোটি টাকার পুরস্কারমূল্যও মেলে। আবার শ্রেষ্ঠ গ্রাম পঞ্চায়েত ক্যাটিগরিতে ওই জেলারই কাবেশ্বর গ্রাম দ্বিতীয় পুরস্কার পায়। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন জেলাশাসক ও জেলা পঞ্চায়েতের শীর্ষকর্তা। জেলা প্রশাসনের দাবি ছিল, তারা দেশের মধ্যে সর্বাধিক জলাশয় ও জলাধার নির্মাণ করেছে। এক্ষেত্রে মোট ১ লক্ষ ২৯ হাজার ২০টি কাজ শেষ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত কাজগুলির মধ্যে বাকি রয়ে গিয়েছে ২৬টি। খরচ হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। যদিও জাতীয় স্তরের একটি সংবাদ মাধ্যমে তদন্তমূলক রিপোর্টে অভিযোগ, জিও-ট্যাগিংয়ে কারসাজি এবং এআই-এর মাধ্যমে ছবি তৈরি করে সেগুলি আপলোড করা হয়েছে কেন্দ্রীয় পোর্টালে। এলাকাগুলিতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, বাস্তবে এইসব জলাশয় ও জলাধারগুলির কোনও অস্তিত্বই নেই। স্থানীয় মানুষও বিভিন্ন অসঙ্গতির কথা জানিয়েছেন। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই সরব হয়েছে কংগ্রেস। 
মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটওয়ারি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, এআই-এর অপব্যবহার করে ভুয়ো উন্নয়নমূলক কাজের প্রচার করছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। খান্ডোয়ায় বিজেপি সরকারের আধিকারিকরা এআই-এর ব্যবহার করে দু’ফুটের গর্তকে কুয়ো বলে চালিয়ে দিয়েছেন। উন্নয়নমূলক কাজের ভুয়ো দাবি করে নানান এআই ছবি পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে। কিন্তু সত্যিটা সামনে এসে পড়েছে। বাস্তবে ওইসব জায়গায় কোনও জলাশয়ের অস্তিত্বই নেই। পুরোটাই প্রযুক্তির অপব্যবহারের খেলা। বিজেপির শাসনে দুর্নীতিও ‘স্মার্ট’ হয়ে উঠেছে।
বিষয়টি সামনে আসার পর তড়িঘড়ি প্রেস কনফারেন্স করে অভিযোগ অস্বীকার করেছে খান্ডোয়া জেলা প্রশাসন। জেলা পঞ্চায়েতের সিইও নাগার্জুন বি গৌড়ার সাফাই, জাতীয় স্তরের ওই পুরস্কারের সঙ্গে এআই ছবিগুলির সম্পর্ক নেই। সেগুলি অন্য একটি পোর্টাল থেকে নেওয়া হয়েছে। জল সংরক্ষণের কর্মসূচি সংক্রান্ত সব ছবি ও নথি কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রক থেকে খতিয়ে দেখা হয়েছিল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ