Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অসমে এনআরসিতে বাদ নাম, স্বামীর ঘরে ফেরা বন্ধ আরতির, বাংলা বললেই বাংলাদেশি! প্রতিবাদে পথে মমতা

কোচবিহারের তুফানগঞ্জের ঝাউকুটির বাসিন্দা সতীশ ঘোষ। ১৯৯১ সালে তাঁর মেয়ে আরতির বিয়ে হয় অসমের বরপেটায়। সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল, যেমন চলে সাধারণ গৃহস্থের সুখ-দুঃখের জীবন।

অসমে এনআরসিতে বাদ নাম, স্বামীর ঘরে ফেরা বন্ধ আরতির, বাংলা বললেই বাংলাদেশি! প্রতিবাদে পথে মমতা
  • ১৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, দিনহাটা, তুফানগঞ্জ: কোচবিহারের তুফানগঞ্জের ঝাউকুটির বাসিন্দা সতীশ ঘোষ। ১৯৯১ সালে তাঁর মেয়ে আরতির বিয়ে হয় অসমের বরপেটায়। সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল, যেমন চলে সাধারণ গৃহস্থের সুখ-দুঃখের জীবন। ঝড় নেমে এল ২০১৮ সালে! অসমজুড়ে শুরু হল এনআরসি। সেই সঙ্গে ‘অনুপ্রবেশকারী’ সন্দেহে ব্যাপক ধরপাকড়। নাগরিকত্বের জন্য তড়িঘড়ি আবেদন করেন আরতিদেবী। একবার নয়, পরপর দু’বার। প্রত্যেক বারই আবেদন বাতিল হয়। এনআরসি থেকে নাম বাদ যায় তাঁর। সেই যে স্বামীর ঘর থেকে বাপের বাড়ি চলে এসেছেন আরতি, আর ফিরতে পারেননি। এখন মাঝেমধ্যে অসমে গেলেও বেশিদিন থাকতে পারেন না। এনআরসি নামে এক অজানা আতঙ্ক ঘিরে ধরে। সম্প্রতি অসমের মুখ্যমন্ত্রীর বাংলাভাষীদের নিয়ে ঘোষণা সেই দুশ্চিন্তা আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘অসমের কোনও বাসিন্দা জনগণনার নথিতে মাতৃভাষা বাংলা লিখলে বোঝা যাবে রাজ্যে কতজন বিদেশি (বাংলাদেশি) বসবাস করছে।’ সেই সঙ্গে দিনহাটার বাসিন্দা উত্তমকুমার ব্রজবাসীর কাছে এসেছে অসম সরকারের পাঠানো এনআরসি নোটিস। এই অবস্থায় আরতিদেবী বলছেন, ‘তাহলে কি বাংলা ভাষায় কথা বলাই কাল হল? আদৌ আর কোনওদিন স্বামীর ঘরে ফিরতে পারব তো!’ তিনি অবশ্য একা নন। সম্পর্কে তাঁর জা, আলিপুরদুয়ারের এক মহিলার ক্ষেত্রেও ঘটেছে এমনটাই। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, খুঁজলে এরকম আরও উদাহরণ মিলবে। 

Advertisement

এর মধ্যে মহারাষ্ট্র, ওড়িশা সহ একের পর এক বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলাভাষীদের হেনস্তা চলছেই। এমনকী, স্রেফ বাংলায় কথা বলার জন্য পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি তকমা সেঁটে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’-এর ঘটনাও ঘটেছে। দেশজুড়ে এই প্রবণতা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। বাংলা ভাষাভাষী মানুষের এই অপমানের প্রতিবাদে তাই পথে নামছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী বুধবার বেলা ১টায় কলেজ স্কোয়ার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত মিছিলে নেতৃত্ব দেবেন তিনি। তাঁর নির্দেশমতো ওই দিনই বেলা ২টো থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলায় জেলায় হবে প্রতিবাদ মিছিল। প্রতিবাদ সংগঠিত হবে দেশের রাজধানীতেও।
আরতিদেবীর ঘটনাটি রবিবার সামনে আনেন রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম। তাঁর বক্তব্য, ‘প্রতিবেশী রাজ্যে বিয়ে করা কি অপরাধ? বাঙালি বিরোধী অসম সরকার আরতি ঘোষকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে এনআরসির তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেয়। বাধ্য হয়ে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে ফিরে আসতে হয়েছে তাঁকে। এর সম্পূর্ণ দায় অসমের বিজেপি পরিচালিত সরকারের।’ রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘ওড়িশা, মুম্বই, অসম, দিল্লি সহ বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বললেই নেমে আসছে অমানবিক অত্যাচার। তাই বাংলার অস্মিতা রক্ষায় ১৬ জুলাই প্রতিবাদ মিছিল করছি আমরা। নেতৃত্ব দেবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী।’ এ বিষয়ে আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা বলেন, ‘ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে এনআরসি জুজু দেখাতে চাইছে তৃণমূল। এনআরসি’র নামে কাউকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে শুনিনি।’ রাজনীতির এই দোষারোপ-পাল্টা দোষারোপের মধ্যেই রবিবার আরতিদেবীর সঙ্গে দেখা করে তাঁর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে আসেন তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক। খোঁজখবর নিয়েছেন মন্ত্রী উদয়ন গুহও।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ