


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০১৪ সালের জুন মাসে দেশজুড়ে ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্প শুরু হলেও এই প্রকল্পে বাংলার জন্য অর্থ বরাদ্দ শুরু হয় ২০১৮ সালে। অর্থাৎ, শুরুতেই বঞ্চনার খাতায় ঢুকে গিয়েছিল বাংলা। অভিযোগ, অন্যান্য রাজ্যের থেকে বাংলাকে পিছিয়ে রাখতে পরিকল্পিতভাবেই এই বিলম্ব করা হয়েছিল। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে । ফলে শেষ লগ্নে এসে বাংলার ন্যায্য প্রাপ্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকার উপর কেন্দ্রের কোপ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে রাজ্য প্রশাসন। কেন এই আশঙ্কা? মঙ্গলবার বিধানসভায় পরিবেশমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্পের অধীনে বাংলাকে ১২৯৩.৪৪ কোটি টাকা দেওয়ার কথা ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের। এর মধ্যে ৮১৭ কোটি টাকা দিয়েছে তারা, যা প্রকল্পের মোট অর্থের এক তৃতীয়াংশ। প্রকল্পের মেয়াদ ফুরোতে আর মাত্র তিন মাস বাকি। এত অল্প সময়ের মধ্যে বাকি ৪৭৫ কোটি টাকা কেন্দ্রের থেকে পাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এই তিন মাসের মধ্যে টাকা পাওয়া না গেলে পরবর্তীতে তা পাওয়ার আশা একেবারেই ক্ষীণ। কারণ, বহু প্রকল্পের ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষের পর কেন্দ্রের তরফে বকেয়া না মেটানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে রাজ্যের।
এ বিষয়ে চন্দ্রিমাদেবী আরও বলেন, ‘এটা রাজ্যের ন্যায্য প্রাপ্য। ওরা মুখে গঙ্গা দূষণ ঠেকানোর কথা বলছে, আর বাস্তবে রাজ্যকে টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে গড়িমসি করছে। এটা দ্বিচারিতা ছাড়া কিছুই নয়। পরিবেশ রক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও এই মনোভাব একেবারেই কাঙ্খিত নয়।’ রাজ্যে এই প্রকল্পের অধীনে কী কী কাজ হওয়ার কথা? জানা গিয়েছে, এর মাধ্যমে টালিনালা সহ ৫৬টি নিকাশিনালা সংস্কার, ৪৭টি সুয়্যারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (এসটিপি) তৈরি, শ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লি, নদীর পাড় সৌন্দর্যায়ন সহ নানা কাজ হওয়ার কথা। এর মধ্যে মাত্র ছ’টি এসটিপি তৈরি ছাড়া বাকি কাজের জন্য সম্পূর্ণ ১০০ শতাংশ খরচই দেওয়ার কথা কেন্দ্রের। ৬টি এসটিপি’র জন্য ৩০ শতাংশ রাজ্য এবং ৭০ শতাংশ খরচ বহন করার কথা কেন্দ্রের। রাজ্যের তরফে সমস্ত খরচের হিসেব ইতিমধ্যে কেন্দ্রের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী তিন মাসের মধ্যে বাংলার বকেয়া টাকা দেওয়া নিয়ে কেন্দ্র কী পদক্ষেপ করে, সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে প্রশাসনিক মহল।