Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উন্নয়নের ৫০ শতাংশ টাকা খরচ করেছে নদীয়া

নতুন অর্থবর্ষ শুরুর এক মাসের কম সময়ের মধ্যেই ৫০শতাংশ টাকা খরচ করে ফেলল নদীয়া জেলার গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিগুলি

উন্নয়নের ৫০ শতাংশ টাকা খরচ করেছে নদীয়া
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নতুন অর্থবর্ষ শুরুর এক মাসের কম সময়ের মধ্যেই ৫০শতাংশ টাকা খরচ করে ফেলল নদীয়া জেলার গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিগুলি। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঢোকার  অল্প সময়ের মধ্যেই তার বাস্তবায়ন করা গিয়েছে। হাতেগোনা কিছু পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতি ছাড়া সামগ্রিকভাবে ভালো জায়গায় রয়েছে নদীয়া জেলা। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা দ্রুত খরচ করার ব্যাপারে জোর দেওয়া হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। ‌সেইমতো নিয়ম করে বিভিন্ন ব্লক ও পঞ্চায়েতের সঙ্গে বসছেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। টাকা খরচে এখনও পর্যন্ত শীর্ষস্থানে রয়েছে কৃষ্ণনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতি। 

Advertisement

নদীয়ার জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদ বলেন, উন্নয়নের টাকা যাতে কোনওভাবেই পড়ে না থাকে, সেইদিকে আমরা জোর দিয়েছি। সেইমতো আমরা ব্লকস্তরে নিয়মিত বৈঠক করছি। উন্নয়নের কাজ কোথাও আটকে থাকলে তার দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রথম কিস্তিতে জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েতের জন্য ১০২ কোটি টাকা এসেছিল। সেই টাকার প্রায় ১০০শতাংশই খরচ হয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি, ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষ শুরু হওয়ার আগে গত অর্থবর্ষের পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের দ্বিতীয় কিস্তির প্রায় ৯০ কোটি টাকা আসে। যার মধ্যে জেলা পরিষদ পায় ১৫ কোটি টাকা। বাকি ৭৫ কোটি টাকার অধিকাংশই খরচ করা হয়েছে গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির তরফে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলার ১৮টি পঞ্চায়েত সমিতিতে মোট ১৪ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা রয়েছে। ‌যার মধ্যে ৪৮.১৭শতাংশ টাকা ইতিমধ্যেই খরচ হয়ে গিয়েছে। কৃষ্ণনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতি ৯০.৪৮শতাংশ টাকা খরচ করে জেলার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। জানা গিয়েছে, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রথম কিস্তির অবশিষ্ট টাকা ও দ্বিতীয় কিস্তি মিলিয়ে কৃষ্ণনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতির কাছে রয়েছে এক কোটি তিন লক্ষ টাকা। যার মধ্যে প্রায় ৯৪ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। কৃষ্ণনগর-২ পঞ্চায়েত সমিতি ৮৬.৫৮শতাংশ, হরিণঘাটা পঞ্চায়েত সমিতি ৭৬.৫৫শতাংশ, হাঁসখালি পঞ্চায়েত সমিতি ৬৯.৬২শতাংশ, তেহট্ট-২ পঞ্চায়েত সমিতি ৬৮.১৯শতাংশ। পঞ্চায়েত সমিতিগুলির মধ্যে কর্মদক্ষতার নিরিখে পিছিয়ে রয়েছে চাকদহ, নাকাশিপাড়া, নবদ্বীপ, রানাঘাট-১ ও শান্তিপুর। এদের মধ্যে শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতি মাত্র ১২.৬৬শতাংশ টাকা খরচ করেছে।
জেলার ১৮৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রথম কিস্তির অবশিষ্ট টাকা ও দ্বিতীয় কিস্তি মিলিয়ে মোট ৬৫ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা রয়েছে। যার মধ্যে ৩৩ কোটি ১১ লক্ষ অর্থাৎ, ৫০.৪৩শতাংশ টাকা খরচ হয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েতে টাকা খরচের নিরিখে শীর্ষে রয়েছে কৃষ্ণনগর-২ ব্লক। সেখানে ৯১.৪৬শতাংশ টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে।‌ কৃষ্ণনগর-১ ব্লকে ৬৮.১৩শতাংশ, রানাঘাট-২ ব্লকে ৬০.৫৩শতাংশ, চাপড়া ব্লকে ৫৮.৯১শতাংশ করে টাকা খরচ হয়েছে।‌ চাকদহ ব্লকের পঞ্চায়েতগুলি মাত্র ২৮.৯৮শতাংশ, তেহট্ট-১ ব্লকের পঞ্চায়েতগুলি ৩২.৬৯শতাংশ, কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের পঞ্চায়েতগুলি ৩৬.০৫শতাংশ টাকা খরচ করেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ